কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০ মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুই আত্মীয় পরিবারের ছয়জন এবং আরেক পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। তবে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে ও স্বপ্নবিলাস ইউনাইটেড স্কুলের শিক্ষক নাসরিন আকতার মুক্তার ডিএনএ মেলেনি।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৫) এবং তাদের ছেলে ফাইজান (৫)। তারা চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা। এ ছাড়া ফারিয়া কবীরের আপন ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী জেরিফের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
রাজধানীর খিলগাঁও-মুগদা এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিমের তিন মেয়ের মধ্যে ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন। তারা ফারিয়া কবীরের তিন খালাতো বোন।
এ ছাড়া যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী আফসানা আক্তার এবং তাদের দুই শিশু রোবাইনা আকতার ও সুনাইনা আকতারের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিহতদের দগ্ধ মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা করেছে। পরে তাদের আত্মীয়দের নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে পাটুয়ারটেক সৈকতের কাছে অবস্থিত তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। সেদিন রিসোর্ট থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১১ জনের নাম ছিল।