সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫ জেলে উদ্ধার

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘দাদা ভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনীগুলো নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সুন্দরবনের আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় কয়েকজন জেলেকে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করে রেখেছে দাদা ভাই বাহিনী। এ তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ অক্টোবর মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকী ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতেরা অতর্কিতে সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। একপর্যায়ে জিম্মি জেলেদের ফেলে ডাকাতেরা সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা থানার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)।

জব্দ করা অস্ত্র ও ফাঁকা কার্তুজের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত