ফেনী থেকে কক্সবাজার গেল মহানগর এক্সপ্রেস

প্রথমবার ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেল মহানগর এক্সপ্রেস। প্রথম যাত্রায় ফেনী থেকে উঠলেন ৪৭ যাত্রী, তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট দেরিতে ছাড়ে ট্রেনটি।

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে মহানগর এক্সপ্রেস। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রথম যাত্রায় ফেনী স্টেশন থেকে ট্রেনটিতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ৪৭ জন যাত্রী। তবে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট বিলম্বে স্টেশন ছাড়ে ট্রেনটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে মহানগর এক্সপ্রেস। রাত ১টা ৪ মিনিটে ফেনী স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ট্রেনটি পৌঁছায় রাত ১টা ৫৫ মিনিটে। পরে রাত ২টা ১০ মিনিটে স্টেশন ছেড়ে যায় এটি। ফলে নির্ধারিত সময়ের ৫১ মিনিট পর ফেনীতে পৌঁছায় এবং ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট দেরিতে স্টেশন ত্যাগ করে।

এদিন ঢাকা থেকে ফেনী আসেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ফেনী স্টেশন থেকে ট্রেনটির যাত্রা শুরুর আগে তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফুল দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন। এ সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, মহানগর এক্সপ্রেসে ফেনী স্টেশন থেকে যাত্রার জন্য মোট ৬২টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য ৪৭টি এবং চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের জন্য ১৫টি আসন রাখা হয়েছে। কক্সবাজারগামী আসনের মধ্যে শোভন চেয়ারের ৩০টি, স্নিগ্ধার ১৫টি এবং এসি বার্থের দুটি আসন রয়েছে।

ট্রেনটির লোকোমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়া। সহকারী লোকোমাস্টার শাহ আলম এবং গার্ড হিসেবে রয়েছেন ইমরুল কায়েস। ট্রেনটিতে ৩০২৯ নম্বর লোকোমোটিভের সঙ্গে ১৮টি কোচ রয়েছে।

এর আগে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের ফেনীতে যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় যাত্রীরা। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের ফলে এখন ফেনী থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য মাত্র ৪৭টি আসন বরাদ্দ থাকায় যাত্রীদের চাহিদা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

রেলওয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে মোট ১৬টি কোচ এবং ৭০৬টি আসন থাকার কথা। যাত্রীরা নিজেদের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি চেয়ার, এসি সিট ও এসি বার্থে ভ্রমণ করতে পারবেন।

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। এসব ট্রেনের সঙ্গে মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হারুন বলেন, মহানগর এক্সপ্রেস ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। প্রথম দিন ফেনী থেকে কক্সবাজারগামী ৪৭ জন যাত্রী ট্রেনটিতে ভ্রমণ করেছেন। নানা আনুষ্ঠানিকতার কারণে প্রথম দিন ট্রেন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত