শীতের সবজি ও ইউরিক অ্যাসিড

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ এএম

রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। তবে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে হবে মৌসুমী চৌধুরী, পুষ্টিাবিদ

শীত এলেই বাজার ভরে ওঠে নানা রঙের সবজিতে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, পালংশাক কিংবা মটরশুঁটি। এসব সবজি স্বাদে যেমন অনন্য, পুষ্টিগুণেও তেমনি সমৃদ্ধ। তবে যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কোন সবজি খাবেন, আর কোনটি এড়িয়ে চলবেন। পুষ্টিবিদদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবজি বাদ দেওয়ার চেয়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি জরুরি।

কোন সবজিতে পিউরিন বেশি

ইউরিক অ্যাসিড সরাসরি সবজি থেকে তৈরি হয় না। খাবারে থাকা পিউরিন নামের উপাদান ভেঙে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। পালংশাক, মটরশুঁটি, ফুলকপি, অ্যাসপারাগাস ও মাশরুমে তুলনামূলক বেশি পিউরিন থাকে। তবে এসব সবজি খেলেই ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পিউরিনসমৃদ্ধ অধিকাংশ সবজি গাউটের ঝুঁকি বাড়ায় না।

অতিরিক্ত খেলে কী হয়

শীতের সবজি ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশের ভালো উৎস। নিয়মিত সবজি খেলে হজম ভালো থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা হয়। তবে কোনো একটি সবজি অতিরিক্ত না খেয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের সবজি খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার হঠাৎ বেশি খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। কিডনির রোগ থাকলে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ সবজি খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত মাংস, অ্যালকোহল ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে সবার ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। তবে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে হবে।

ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে

পর্যাপ্ত পানি পান করুন : চিকিৎসকের নিষেধ না থাকলে নিয়মিত পানি পান করুন। এতে কিডনির মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড বের হতে সাহায্য করবে।

খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনুন : কলিজা, মগজ, অতিরিক্ত লাল মাংস, কিছু সামুদ্রিক মাছ এবং মাংসের নির্যাস কম খান।

সবজি ও ফল খান : শীতের বিভিন্ন সবজি, কম চর্বিযুক্ত দুধ ও পরিমিত ফল খাদ্যতালিকায় রাখুন। পিউরিন আছে বলে সবজি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন : কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস এবং ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ পানীয় ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন : নিয়মিত হাঁটুন ও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন। তবে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন : ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে, গাঁটে ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ লাগতে পারে। নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না।

সতর্কতা : হঠাৎ কোনো গাঁট লাল, গরম ও ফুলে গেলে, বিশেষ করে জ্বর থাকলে, দ্রুত চিকিৎসা নিন। এটি গাউট ছাড়াও গাঁটের সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত