ঢাকা-চট্টগ্রাম অংশত বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ এএম

মেঘনাঘাট-হরিপুর লাইন ট্রিপ করায় রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের আংশিক এলাকা গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে গ্রিড পুনরায় চালু করা হলেও কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

ন্যাশনাল লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল ১৪ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট। লাইন ট্রিপ করার ফলে উৎপাদন নেমে আসে ৯ হাজার ৩৪৯ মেগাওয়াটে। তখন ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। একবার কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হলে তা চালু করতে সময় লাগে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হলেও সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে প্রধান করে পিজিসিবি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, কোনো কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বন্ধ হয়েছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র একেবারে বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, বিবিয়ানায় সামিট এবং পিডিবির দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। আবার শিকলবাহা কেন্দ্রটি গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেলফ মোডে চলতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমে সব কেন্দ্র চালু করে গ্রিডে সরবরাহ করার কথা জানান তিনি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র বলছে, মেঘনাঘাট-হরিপুর লাইন ট্রিপ করায় ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট এলাকার কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেলফ মোডে চলতে শুরু করে। এতে গ্রিডের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম আংশিকভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারিকুল হক জানান, পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

পিডিবির সিস্টেম অপারেশনের চট্টগ্রামের প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, ১২টা ৪৩ মিনিটে চট্টগ্রামের একাংশের বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন চট্টগ্রামের সব এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ১০ মিনিট পরে তার এলাকা খুলশীতে বিদ্যুৎ আসে। এরপর পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। তিনি গতকাল ৫টা ২৮ মিনিটে জানান, তার এলাকায় তখন এক হাজার ১০০ মেগাওয়াটের পুরোটা সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে এ ঘটনার সময় চট্টগ্রাম জোনের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়েছিল কি না, তিনি জানাতে পারেননি।

গতকাল দুপুরে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে অনাকাক্সিক্ষতভাবে ঢাকার পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের একাংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়েছে। ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিল প্রভৃতি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

 সে সময় সচিবালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, শিক্ষা ভবন, বিদ্যুৎ ভবন, মতিঝিলের ব্যাংকপাড়া বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় এসব এলাকায়। সচিবালয়ে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

সচিবালয়ের বিদ্যুৎব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী তানভীর নেওয়াজ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেশ রূপান্তরকে। তিনি বলেন, ডিপিডিসি থেকে তাকে জানানো হয়েছে, গ্রিড-বিপর্যয়ের কারণে সচিবালয় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের একটি অংশ। বিশেষ করে বহুতল বাড়ি, ব্যাংক ও হাসপাতালের রোগীরা বেশি বিপাকে পড়েন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত