কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আশা-নিরাশার দোলাচলে রয়েছেন। তিনি ফিরবেন সেটি যেমন সুনিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ, তেমনি তিনি ফিরবেন না সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে পারছেন না তারা।
তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র জানায়, ২০২৪-এ গণঅভুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লির আশ্রয় থেকে আপাতত দেশে না ফিরতে অনুরোধ করেছে ভারত সরকারও। ভারতের যুক্তি হলো শেখ হাসিনার জীবননাশের হুমকি আছে। আপাতত দেশে ফেরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। দেশে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী এখন তৎপর। এ অবস্থায় তার দেশে ফেরাকে ঝুঁকি মনে করছে ভারত সরকার। তবে শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি ভারত সরকারের কোনো যুক্তি। ভারত সরকার এটা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতেও রয়েছে। শেখ হাসিনার অনমনীয় অবস্থানের কারণে ভারত সরকার তাকে আর আটকাতেও চায় না। যদিও নিরাপত্তা নিয়ে দেশটির উদ্বেগ আছে। সে বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে নেপথ্যে বেশ বোঝাপড়া চলছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। সূত্র আরও জানায়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ভারত বেশ কিছু ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাইবে। নিশ্চয়তার ব্যাপারগুলো চূড়ান্ত হলে দেশে ফেরার ব্যাপারে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তরালের আলোচনা ব্যর্থ হলে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরা অনিশ্চিতই থেকে যাবে। অন্দরমহলের আলোচনায় রাজনীতি অস্থির করে তোলা যাবে না এ গ্যারান্টিও দিতে হবে আওয়ামী লীগকে।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নেতাকর্মীদের একটি অংশ ধরে নিয়েছে ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। অপর একটি অংশ শেখ হাসিনার ফেরার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখছে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, দল সংগঠিত নয়, মব বন্ধ হয়নি, দমন-পীড়ন চলছে, পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেএ অবস্থায় নেতাকর্মীদের মাঠে দাঁড়ানোই অসম্ভব। সেক্ষেত্রে দলীয় সভাপতির দেশে ফেরার পরিস্থিতি কতটা অনুকূলে সেটা আগে ভাবতে হবে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন এমন বিশ^াস করেন যারা তারা দাবি করেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বোঝাপড়া শেষ হয়ে গেছে। একটি বিশেষ শক্তিও শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইতিবাচক। ফলে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সম্পাদকীয় পদের একজন নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেও নানা রকম ভাবনা আছে। পরিষ্কারভাবে না তিনি কীভাবে দেশে ফিরে আসবেন। ওই নেতার দাবি, আমাদের কাছে তথ্য হলো তিনি দেশে ফিরবেন ডিসেম্বরে। তবে এ ব্যাপারে দলের নেতাদের প্রস্তুতি নেওয়ার কোনো নির্দেশনা আসেনি। তারা কী করবেন সেটিও পরিষ্কার করা হয়নি।
দলের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের নেতাকর্মীদের কাছে নির্দেশনা না যাওয়ার কারণ অন্য কৌশল। তার মতে, সবাই কৌশল জেনে গেলে নানারকম জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পুরো ছক এখনো নিজের মধ্যেই রেখেছেন শেখ হাসিনা । যখন জানানো দরকার জানাবেন সবাইকে।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর। দুয়ে দুয়ে মিলে গেলে দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। সেটি না মিললে ফেরা অনিশ্চিত হতেই পারে। তবে এখন পর্যন্ত যেটি হয়েছে তা হলো শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্ত, তিনি দেশে ফিরবেন।
যা বলেছেন তথ্য উপদেষ্টা : গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তাকে কোনো মবের মুখোমুখি হতে হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যাকে চাই, তিনি আসবেন, আমরা হ্যাপি। আমাদের ধরেবেঁধে আনতে হলো না। উনি এলে বিচারের মুখোমুখি হবেন। তিনি ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি। উনি আসার পর আইনি প্রক্রিয়ায় যা যা হওয়ার তাই হবে।’ তবে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, এ নিয়ে সন্দিহান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘এ আলোচনা চলতে থাকবে।’
উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরে এলে ন্যায়বিচার ফেস করবেন। উনি কোনো মব ফেস করবেন না। উনি কোনো রকম বেআইনি কিছু ফেস করবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) ন্যায়বিচার করেননি। আমরা ন্যায়বিচার দিয়ে সেটা করব। আসুক, ওনাকে ওয়েলকাম।’