সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবে নতুন মামলায় বিচারে মুখে মেটা-স্ন্যাপ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

শিশু-কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথিত ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।

বাসস জানায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) লস অ্যাঞ্জেলেসে এ মামলায় জুরি সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবার বিবাদী হিসেবে রয়েছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এবং প্রথমবারের মতো স্ন্যাপ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের মামলায় দুই বাদী এসজে ও কেডিবির আইনজীবীরা যুক্তি দেবেন, যথাক্রমে ১৩ ও ১৫ বছর বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুরু করার পর তাদের মক্কেলরা ‘আসক্তিকর ও সমস্যাজনক’ অ্যাপের সংস্পর্শে আসেন।

ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কিশোরী এসজে স্ন্যাপের তৈরি স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করতে গিয়ে ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক ও নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে জড়িয়ে পড়েন বলে তার আইনজীবীদের দাবি। এর পরিণতিতে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি ও আত্মক্ষতিমূলক আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মিসিসিপির ১৮ বছর বয়সী কেডিবিও মেটা ও স্ন্যাপের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে একই ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

তার আইনজীবীদের মতে, এর ফলে তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।

মেটা আগে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জুলাইয়ে এএফপিকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, ‘ভিত্তিহীন মামলার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে আমরা পিছপা হব না।’

অন্যদিকে, স্ন্যাপের দাবি, তাদের অ্যাপ ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো নয়। কারণ, স্ন্যাপচ্যাট মূলত বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে এমন অভিযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে হাজার হাজার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম মামলাটির বিচার এ বছরের শুরুর দিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এসব মামলার কার্যক্রমে নানা অগ্রগতি ও পরিবর্তন এসেছে।

বছরের শুরুতে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক মামলায় মেটা ও ইউটিউব হেরে যায়। ওই মামলায় জুরি বোর্ড কেজিএম নামে পরিচিত এক তরুণ ব্যবহারকারীর ক্ষতির জন্য প্রতিষ্ঠান দুটিকে যৌথভাবে দায়ী করে এবং ৬০ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

মেটা জানায়, তারা রায়ের সঙ্গে ‘সম্মানজনকভাবে দ্বিমত’ পোষণ করে।

ওই বিচার শুরুর আগেই স্ন্যাপ ও টিকটক কেজিএমের সঙ্গে সমঝোতা করে।

কয়েক মাস পর আগস্টে আরেকটি মামলার বিচার শুরুর কথা ছিল। তবে বিচার শুরুর আগেই স্ন্যাপ, টিকটক ও ইউটিউব মামলাটির নিষ্পত্তি করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, এমনকি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মামলাগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি তৈরির মতো নকশা ও ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত