নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করায় এক যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে মারধর করে মুখে চুনকালি মাখানো এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী যুবকের নাম মাসুদ রানা (৩৫)। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি পূণিমা (২১) নামে তাঁর শ্যালিকাকে বিয়ে করেন। এরপর দুই স্ত্রীকে নিয়ে বদলগাছী উপজেলা সদরের পুরাতন ব্রিজ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ধর্মীয় বিধানের কথা উল্লেখ করে তাঁদের বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়। স্থানীয় লোকজনের ক্ষোভের মুখে ওই যুবক জিনিসপত্র গুছিয়ে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সোমবার রাতে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তাঁদের আসার খবর জানাজানি হলে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। এ বিয়ের কারণে তরুণ প্রজন্মের ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁদের গ্রাম ছাড়তে বলা হয়। একপর্যায়ে মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাঁদের এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে অনেক মানুষ এক যুবক ও দুই নারীকে ঘিরে রেখেছেন। একজন যুবককে ধরে রেখেছেন, আরেকজন নারী তাঁদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে দিচ্ছেন। উপস্থিত লোকজনকে ‘চুনকালি, চুনকালি’ বলে উল্লাস করতে শোনা যায়। গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সময় কেউ কেউ লাঠিসোঁটা দিয়ে যুবককে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী যুবক মাসুদ রানার শ্বশুর জানান, তাঁর দুই মেয়ে ও জামাতা রাত আটটার দিকে বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে গ্রামের কিছু লোক এসে তাঁদের হেনস্তা করেন এবং গ্রাম ছেড়ে যেতে বলেন। পরে জামাতা ও দুই মেয়েকে মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
মাসুদ রানাকে মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। দুই স্ত্রীর কারও সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নওগাঁ জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সাবেক সভাপতি মাওলানা আকরাম হোসেন বলেন, ইসলামের বিধান অনুসারে একসঙ্গে আপন দুই বোনকে বিয়ে করা যায় না। প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকলে এবং বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকলে তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা নাজায়েজ। তবে প্রথম স্ত্রী মারা গেলে বা তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে শ্যালিকাকে বিয়ে করা যায়।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করেননি। তাঁরা বদলগাছীতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখান থেকে চলে গেছেন।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, ফেসবুকের ভিডিও দেখে তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।