নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মো. ইবনুল মুহী নামে এক কর্মকর্তাকে ‘স্ট্যান্ডরিলিজ’ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী পরিচালক (সিএনএস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বরিশাল বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে। বেবিচকের আদেশ মতে গতকালই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়তে বলা হয়েছে।
ইবনুল মুহীর বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী ছাড়াও বিমানবন্দরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে মো. ইবনুল মুহীর বিরুদ্ধে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন নুর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বসার চেয়ারে সুই থাকলে যেমন বসা যায়না। ইবনুল মুহীর ক্ষেত্রে বিষয়টি এরকমই। তার পারিবারিক কিছু বিষয় অবগত আছি। তার নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। সত্যতা পাওয়ায় তাকে বরিশাল বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে।’
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ইবনুল মুহী ২০১৯ সালে বেবিচকে যোগদান করেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সহকারী পরিচালক (সিএনএস) পদে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলা সদর এলাকায়। তার বাবার নাম আবদুর রাজ্জাক।
অভিযোগ আছে, ২০২৩ সালে তার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা থেকে আরেক নারীকে বিয়ে করেন মো. ইবনুল মুহী। প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়ে করেন কাবিন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত ৩ বছর ধরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকার সরকারি বাসায় বসবাস করতে থাকেন ইবনুল মুহী। সরকারি ওই বাসায় থাকতো তার স্ত্রীর (পরে বিয়ে করা) বড় বোনোর ১৫/১৬ বছর বয়সী এক মেয়ে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এক পর্যায়ে স্ত্রীর বড়বোনের ওই মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ইবনুল। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১৩ আগস্ট আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বিমানবন্দরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিবাদে বিমানবন্দর প্রশাসন তার নামে বরাদ্দকৃত বাসা বাতিল করতে বাধ্য হয়। পরে তাকে সরকারি ওই বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
কাবিন রেজিস্ট্রি ছাড়াই বিয়ে করার বিষয়টি তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে তাদের চাপের মুখে একই দিন (১৩ আগস্ট) ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে কাবিন রেজিস্ট্রি করতে বাধ্য হন ইবনুল মুহী।
এদিকে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া স্ত্রীর বড়বোনের মেয়েকে নিয়ে রাখা হয় নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি বাসায়। সেখানে তিনি নিয়মিত যাতায়াত করেন। পরে বিষয়টি জানাজানির পর ওই মেয়েকে হেফাজতে নিয়েছে তার পরিবার।
এদিকে একাধিক নারীর সঙ্গে ইবনুল মুহীর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুমিনুর রশীদকে সভাপতি করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বেবিচক সদরদপ্তরের প্রশাসন বিভাগে পাঠানো হয়।
তথ্যসূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ইবনুল মুহীর বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাৎক্ষণিক বদলি এবং সরকারি কর্মচারী বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৮ অক্টোবর বেবিচক কর্তৃপক্ষ’র সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ইবনুল মুহীকে ‘স্ট্যান্ডরিলিজ’ করে বরিশাল বিমানবন্দরে বদলি করা হয়।
উক্ত আদেশে লেখা আছে ‘কর্তৃপক্ষের কাজের স্বার্থে’ ইবনুল মুহীকে তাৎক্ষনিক বরিশাল বিমানবন্দরে সহকারী পরিচালক (সিএনএস) হিসেবে বদলি করা হলো। ২৭ অক্টোবরের মধ্যে তাকে (ইবনুল মুহী) চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়তে বলা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ইবনুল মুহীকে গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল বিমানবন্দরে বদলি করা হলেও তিনি এখনো ঘুরাফেরা করছেন চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
নাম প্রকাশ না করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্রয়কারী কর্মকর্তা হিসেবে ইবনুল মুহী বিগত ছয় বছর শাহ আমানত বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের নানা যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম কেনাকাটায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা দেড়টার দিকে মো. ইবনুল মুহীর মুঠোফানে কল করলে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন বলে সংযোগ কেটে দেন। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে পুনরায় তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
১০ কোটি টাকার সেতুতে বাঁশকাণ্ড, প্রকৌশলী স্ট্যান্ডরিলিজ