পাঁচ মাস ধরে ভাতা পাচ্ছেন না ৪০ বনকর্মী

ভাতা বন্ধ থাকলেও দিনরাত বন পাহারায় নিয়োজিত ৪০ সিপিজি সদস্য, পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে তারা।

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

মৌলভীবাজারের তিনটি বন বিটে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে বন পাহারা দিচ্ছেন কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) ৪০ সদস্য। ভাতা বন্ধ থাকায় সংসারের খরচ, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের মানুষও পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, লাউয়াছড়া বনের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবৈধ উল্লেখ করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম সিপিজি সদস্যদের ভাতার অর্থ ছাড় করছেন না। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে সিপিজি সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরাও তাঁদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও চাউতলী বন বিটে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দায়িত্ব পালন করছেন ৪০ জন সিপিজি সদস্য। তাদের মধ্যে ১০ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। রোস্টার অনুযায়ী পালাক্রমে দিনে ও রাতে বন পাহারা দেন তাঁরা। এ কাজের জন্য প্রত্যেক সদস্যের দৈনিক ভাতা ৩০০ টাকা।

তবে গত পাঁচ মাস ধরে তাদের ভাতা বন্ধ রয়েছে। পারিশ্রমিক না পেলেও দায়িত্ব পালন বন্ধ করেননি সদস্যরা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আয় বন্ধ থাকায় তাঁদের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি আর্থিক অনিশ্চয়তা ও হতাশায় দিন কাটছে তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিপিজি সদস্যদের ভাতা বন্ধ থাকার পেছনে লাউয়াছড়ার বন ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে জটিলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম কমিটিকে অবৈধ বলে উল্লেখ করায় ভাতার অর্থ ছাড় হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কমিটির বৈধতা নিয়ে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনগত জটিলতা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরও আগের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সিপিজি সদস্য ও কর্মীদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভাতা বন্ধ থাকার বিষয়ে লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের সিপিজি সদস্য বেগম বিবি, রায়না বেগম, পারভীন বেগম এবং পুরুষ সদস্য অরুণ নায়েক, ফজল মিয়া ও শানুর মিয়াসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জুন থেকে তারা ভাতা পাচ্ছেন না। কবে প্রাপ্য অর্থ পাওয়া যাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

তারা বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে ভাতা না পেলেও বন পাহারার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এতে তাদের পরিবারগুলো আর্থিক দুরবস্থায় পড়েছে। কমিটি নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। তারা দরিদ্র মানুষ। অন্তত চারটি ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ চান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে অভিযোগ এবং ভাতা বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা সাধারণ কমিটির সভাপতি ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল কেটে দেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত