রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে টানা ৯ দিন ধরে চলা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি আগামী রবিবার (১ নভেম্বর) এক দিনের জন্য শিথিল রাখার ঘোষণা দিয়েছে 'সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি' ও 'সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন'।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, 'সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর বিষয়টি বিবেচনা করে ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য সড়ক অবরোধ শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। রবিবারের পর থেকে পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আবারও কার্যকর থাকবে।'
জানা গেছে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছে সংগঠন দুটি। এ উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ শিথিলতার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বৌদ্ধবিহার কর্তৃপক্ষকে অবরোধকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিন দফা দাবিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে।
এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসা, স্থানীয় মানুষের যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের সিদ্ধান্তে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি হলেও পরদিন থেকে কর্মসূচি চালু রাখার ঘোষণায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ও পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
গত ২২ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আন্দোলনকারী ও দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
'সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের দেওয়া পূর্বের আশ্বাস বাস্তবায়নের' দাবিতে গত ১১ অক্টোবর আন্দোলন শুরু করে ওই দুই সংগঠন।
মাঝে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সংগঠন দুটি। প্রশাসনের সঙ্গে দুদফা বৈঠকেও সমঝোতা হয়নি। প্রশাসনের সঙ্গে দুদফা বৈঠকেও সমঝোতা হয়নি।
অবরোধের প্রথম দিনে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েন ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক। পরে ২২ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ পর্যটকদের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা করিয়ে দেয়।
সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহর সাজেকের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড দেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পথ আটকে দেন। দীর্ঘ সময় আলোচনা করেও অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়।