সিলেটে রূপকের মৃত্যুরহস্যের জট খোলেনি ৫ মাসেও

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

সিলেটের বিয়ানীবাজারে সাদিকুল ইসলাম রূপকের রহস্যজনক মৃত্যুর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনার কোনো কূলকিনারা হয়নি। উন্মোচিত হয়নি মৃত্যুরহস্য। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই বলছে, মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চলছে। গত ৩১ মে নিজ বাড়ি থেকে পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় রূপকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের দুটি সংস্থা তদন্ত করলেও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ অবস্থায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ। রূপকের মৃত্যুর পর থেকে বাবার সান্নিধ্য না পেয়ে আকুল তার পাঁচ বছরের সন্তান ওয়াসিয়া ইসলাম ও এক বছর বয়সী ওয়াজিয়া ইসলাম। স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় রূপকের স্ত্রী। এদিকে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় গড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্তসংশ্লিষ্টদের হাতে পৌঁছেনি রূপকের লাশের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট।

জানা গেছে, বিয়ানীবাজারের খাসাড়ীপাড়া গ্রামের আবদুল মুক্তাদিরের ছেলে রূপকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিপুল মানুষ সেখানে ভিড় করেন। এ সময় যেভাবে মরদেহটি ঝুলছিল, তা দেখে উপস্থিত জনতা এটিকে হত্যাকা- হিসেবেই মন্তব্য করেন। এমন কথাবার্তা পুলিশ প্রশাসন জানলেও, একটি সূত্র জানিয়েছে, ফরেনসিক রিপোর্ট ছাড়া প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপকের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম ইপক নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ভাইয়ের মৃত্যুরহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে, ঈদুল আজহার একদিন পর কোনাগ্রামে রূপকের নানাবাড়িতে বেড়াতে যান তার মা, বোন, স্ত্রী ও দুসন্তান। এ সময় রূপক তাদের সঙ্গে না গেলেও রাতে তার সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে তিনি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নানাবাড়ি যাননি। পরদিন ৩১ মে বিকেলে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে এসে রূপকের কোনো সাড়াশব্দ পাননি। একপর্যায়ে তারা বাড়ির ড্রয়িংরুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রূপকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রূপকের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট, রূপকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রূপকের স্বজন ও স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি রূপক আত্মহত্যাই করে থাকে তাহলে তার দুই হাত কী করে পেছনে বাঁধা ছিল? পেছনে হাত বাঁধা একজন মানুষ কীভাবে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলবে? এ ছাড়া তারা উদ্ধার হওয়া চিরকুটে আর্থিক হিসাবের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না সে প্রশ্নের মীমাংসার কথা বলেন।

এ ঘটনায় রূপকের মা রাবিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বিয়ানীবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও পুলিশ রূপকের মৃত্যুরহসের কূলকিনারা করতে না পারায় মামলাটি হস্তান্তর করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এ। গত ২ আগস্ট সিলেট পিবিআই রূপকের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত শুরু করে। কিন্তু পাঁচ মাসেও এ মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সিলেট পিবিআইর এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল আহাদ গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, গুরুত্বসহকারে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভিসেরা ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত