মনপুরায় নেই শিক্ষার্থীর সাফল্যের মুকুট, জিপিএ-৫ অধরা

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ পিএম

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ধস নেমেছে। এই উপজেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৫০ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং অকৃতকার্য হওয়ার হার ৬৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বড় দুঃখজনক বিষয় হলো এই উপজেলা থেকে কেনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মনপুরার পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মনপুরা সরকারি কলেজ থেকে ১৫৮ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১২৮। কলেজটির পাসের হার ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং অকৃতকার্য হওয়ার হার ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ।

মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ থেকে ৩৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৭ জন। ফেল করেছেন ১৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং অকৃতকার্য হওয়ার হার ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

সাকুচিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে ১৪০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১০১ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং অকৃতকার্যের হার ৭২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

মাদ্রাসা পর্যায়ে হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন সাতজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং অকৃতকার্য হওয়ার হার ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এ ছাড়া মনপুরা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০ শিক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০০ শতাংশ এবং অকৃতকার্য হওয়ার হার শূন্য শতাংশ।

মনপুরা সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী তপু কাজী বলেন, এবারের ফলাফল আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সাকুচিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মনির হোসেন বলেন, ‘এবারের ফলাফল আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফল পর্যালোচনা করে কোন কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হবে। ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি,পাঠদানে মনোযোগ ও অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মনপুরার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ফলাফল উদ্বেগজনক। বিশেষ করে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া এবং কেউ জিপিএ-৫ না পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত