নিরাপদ কৃষি আবাদে পাবনায় ৯ কৃষককে সম্মাননা

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
পাবনার আমিনপুরে নিরাপদ কৃষি আবাদে উদ্ধুদ্ধ করতে কৃষকদের প্রাকৃতিক কৃষি সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
 
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে আমিনপুরের বিকে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান দয়ালনগর বাহারুন্নেচ্ছা পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এ সম্মাননা দেয়া হয়।
 
আয়োজকরা জানান, সম্প্রতি নিরাপদ খাদ্য সংকটে দেশের মানুষের নানাবিধ রোগবালাইয়ে আকান্তের হার বেড়েছে। এর কারণ হলো অতিমাত্রায় সার কীটনাশকের ব্যবহার সহ সামগ্রিকভাবে অনিরাপদ কৃষি আবাদ। এর বিপরীতে নিরাপদ বা প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থায় ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করতে এই সম্মাননার আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে দেশের নানা প্রান্তের প্রায় ১৫০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কৃষক আবেদন করেন।
 
 
এরমধ্যে ব্যক্তি কৃষক ৪ ও প্রতিষ্ঠান কৃষক ৪ জন। এর আওতায় সেরা বর্ষ প্রাকৃতিক কৃষক হিসেবে ১ লাখ টাকা করে দুজন, ১ম রানার আপ হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা করে দুজন ও ২য় রানার আপ হিসেবে ৪ জনকে ৫০ হাজার করে টাকা ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, বর্ষসেরা প্রাকৃতিক কৃষক কোলে কাপড়া ও সানোয়ার হোসেন, প্রথম রানার আপ সুলতানা খাতুন ও চাষবাস, দ্বিতীয় রানার আপ প্রযন্ত, দেশি ফার্ম, শাহাদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী।
 
দেশে কৃষিখাতে বিভিন্নরকম অবদান বিবেচনায় সম্মাননা বা পুরস্কার প্রদানের রেওয়াজ থাকলেও ভুল ধারণায় অতি ফলনের আশা ছেড়ে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য সম্মাননা দেয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
 
এ ব্যাপারে সম্মাননাপ্রাপ্ত টাঙ্গাইলের মধুপুরের কৃষক সানোয়ার হোসেন বলেন, ফসল আবাদের নামে মাটির ক্ষতি হয়, এমন কোনো উপকরণ ব্যবহার বা কার্যক্রম করি না। এটি করা উচিতও নয়। মা ও মাটি কখনো কাউকে ঠকায় না। একে ভালোবাসলে প্রতিদান মিলবেই। আজকের সম্মাননা এর আরেকটি উদাহরণ।
 
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা না করতে পারলে আমরা নিরাপদ থাকতে পারব না। আধুনিক কৃষির নামে অতিরিক্ত সার কীটনাশক ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। সুষম সার কীটনাশকের ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ নিয়ে গবেষণা বাড়ানোরও প্রয়োজন। সরকারও নিরাপদ কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ রক্ষার দিকে গুরুত্বারোপ করছেন। আজকের কৃষি সম্মাননার উদ্দেশ্যও এটি।
 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এম.এ বাতেন খান বলেন, আমাদের দেশের ৩৪ শতাংশ কৃষক ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে জানা ছিলো। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন তা বেড়ে ৪০ শতাংশে উঠেছে। এভাবে আমরা অনেকেই নানা রোগে ভুগছি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হওয়ায় এটির বিস্তার ঘটেছে। এক্ষেত্রে নিরাপদ বা প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে না তুললে এই সংকট ঘুচবে না। তাই সার কীটনাশকের অতি ব্যবহার না করে সনাতন পদ্ধতির নিরাপদ কৃষি আবাদকে উদ্বুদ্ধ করতে আমাদের এই আয়োজন। কৃষকদের উদ্ধুদ্ধকরণ এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও জানান এ উদ্যোক্তা।
 
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক রেল সচিব সেলিম রেজা, পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির (নাটা) মহাপরিচালক সাইফুল আজম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম জামাল উদ্দিন, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা মামুনুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পের কনসালটেন্ট ড. মাহবুব আলম, দয়ালনগর বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এসএম আব্দুর রাজ্জাক ও পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার প্রমুখ।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত