রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু

এর আগে, প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রেশ বা তাজা জ্বালানি সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। মূলত রিঅ্যাক্টরের প্রথম জ্বালানি চক্র সম্পন্ন হওয়ার পরই এই রিফুয়েলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
উৎপাদনের অপেক্ষায় থাকা দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন—রসাটমের নিযুক্ত বাংলাদেশি জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন ইউনিট-১ এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানির প্রারম্ভিক লোডিং সফলভাবে সম্পন্ন করে। এর ধারাবাহিকতায় রিঅ্যাক্টরটি সম্প্রতি তার সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি স্তরে পৌঁছেছে, যা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 
অন্যদিকে, ইউনিট-২ এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্যও পারমাণবিক জ্বালানি আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রসাটমের ফুয়েল ডিভিশনের অধীনস্থ নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে উৎপাদিত জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালানটি ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে নিরাপদে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

এর আগে, প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রেশ বা তাজা জ্বালানি সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। মূলত রিঅ্যাক্টরের প্রথম জ্বালানি চক্র সম্পন্ন হওয়ার পরই এই রিফুয়েলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। রসাটমের নির্দেশনা অনুযায়ী, রূপপুর প্ল্যান্ট সাইটে পৌঁছানোর পর জ্বালানি কন্টেইনারগুলো নির্ধারিত ও সুরক্ষিত ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল সংরক্ষণাগারে স্থানান্তর করা হয়।
 
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং সর্বোচ্চ পারমাণবিক নিরাপত্তার চাহিদা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলিকে বাধ্যতামূলক ভিজুয়াল এবং ইন্সট্রুমেন্টাল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকার, জেনারেল কনট্রাক্টর এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ যৌথ কমিশনের মাধ্যমে এই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিদর্শন পরিচালিত হচ্ছে।
 
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং পরবর্তী পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক অপারেশনের আগে, ইউনিটটিকে ‘পাওয়ার অ্যাসেনশন’ পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করতে হবে।

বাংলাদেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার সর্বাধুনিক নকশাকৃত দুটি জেনারেশন ৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলোর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। বিশ্বখ্যাত রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন এই মেগা প্রকল্পের মূল ডিজাইনার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত