একসময় গ্রামবাংলার মেলা, উৎসব কিংবা বৈশাখী আয়োজনে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল পুতুল নাচ। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ভিড় করত এই পুতুল নাচ দেখতে।
ঢোল, বাঁশি ও নানা বাদ্যযন্ত্রের তালে পুতুলের নাচ আর গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা, পৌরাণিক কাহিনি ও লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরতেন শিল্পীরা।
জনশ্রুতি রয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিপিন পাল ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম পুতুল নাচের প্রচলন করেন। পরবর্তী সময়ে এ শিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষ্ণনগর গ্রামের গিরীশ আচার্য ও তারু মিয়াসহ মেড্ডা এলাকার ধন মিয়া, কালু মিয়া, রাজ হোসেন এবং কাজীপাড়া এলাকার শরীফ মালদার।
তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছে পুতুল নাচের জনপ্রিয়তা।
টেলিভিশন, স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবের সহজলভ্যতায় মানুষ এখন ঘরে বসেই বিনোদনের নানা উপকরণ পাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে লোকনাট্যের প্রাচীন এই মাধ্যম। গ্রামীণ মেলা ও উৎসবেও আগের মতো পুতুল নাচের আয়োজন দেখা যায় না।
পুতুল নাচের প্রদর্শনী কমে যাওয়ায় অনেক দল আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন, আবার বাধ্য হয়ে অনেক শিল্পী অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। যেহেতু দিন দিন পুতুল নাচ বিলুপ্তির পথে, সেহেতু এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পুতুল নাচের শিল্পীরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু উৎসবকেন্দ্রিক আয়োজন দিয়ে পুতুল নাচের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিয়মিত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা, শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা, নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।
তা না হলে একসময় বাংলার লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ এ অধ্যায় হয়তো কেবল বইয়ের পাতায় ও মানুষের স্মৃতিতেই বেঁচে থাকবে।