২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের তৃতীয় দিন শেষে জমে উঠেছে লড়াই। আল আমিন জুনিয়রের সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। নাঈম আহমেদের ব্যাটে লড়ছে রাজশাহী বিভাগ। অন্যদিকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে চট্টগ্রাম বিভাগ। এছাড়া আব্দুল্লাহ সিফাতের ফিফটিতে লড়াইয়ে টিকে আছে বরিশাল বিভাগ।
খুলনায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৮ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে ময়মনসিংহ। এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। দ্বিতীয় দিন শেষে ২ উইকেটে ৫২ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল দলটি। তবে তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ময়মনসিংহ। আল আমিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরি এবং আব্দুল মজিদের অর্ধশতকে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান সংগ্রহ করেছে তারা।
আল আমিনের সঙ্গে খুলনার যেন একটা বিশেষ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। গত মৌসুমে খুলনার বিপক্ষেই ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ৬ মৌসুমের সেঞ্চুরি-খরা কাটিয়েছিলেন। এবারও সেই খুলনার বিপক্ষে পেলেন সেঞ্চুরি। ১৮৫ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১০২ রান করেন আল আমিন। অন্য প্রান্তে মজিদ ১১৯ বলে যোগ করেন ৫৯ রান। এ ছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৩৭, রিজান হোসাইন ৩৩ এবং মাহফিজুল ইসলাম রবিন করেন ২৯ রান। খুলনার হয়ে শেখ পারভেজ জীবন ৪টি, সৌম্য সরকার ৩টি উইকেট নেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে খুলনার চেয়ে ১৩৫ রানে এগিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে ময়মনসিংহ।
এদিকে বগুড়ায় রংপুরের বিপক্ষে লড়ছে রাজশাহী। তৃতীয় দিন ৩ উইকেটে ১২২ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করা রংপুর ২৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। অনিক সরকার ৭৫ এবং ইকবাল হোসেন ৭০ রান করেন। আবু হাসিমের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ রান। রাজশাহীর হয়ে মেহেদী হাসান ৩টি উইকেট শিকার করেন। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে রাজশাহী। তবে অধিনায়ক প্রিতম কুমারের ৪১ রানের পর নাঈম আহমেদ ও সাব্বির হোসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তারা। আজ ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে চতুর্থ ও শেষ দিনে ব্যাট করতে নামবে দলটি।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে সিলেটের বিপক্ষে জয়ের সুবাস পাচ্ছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান মুরাদের ৪ উইকেটে সিলেটকে ২১৮ রানে থামিয়ে দেয় তারা। নাসুম আহমেদ ২৮ এবং তোফায়েল আহমেদ ৪৭ রান করেন। জয়ের জন্য ২২৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মাহমুদুল হাসান জয়কে হারায় চট্টগ্রাম। তবে সাদিকুর রহমান ও শাহ পরানের অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটি দলকে এগিয়ে নিয়েছে। সাদিকুর ৫৮ এবং শাহপরান ৫১ রানে অপরাজিত আছেন। ১ উইকেটে ১২৬ রান নিয়ে দিন শেষ করা চট্টগ্রামের শেষ দিনে প্রয়োজন ১০১ রান।
আরেক ম্যাচে রাজশাহীতে ভেজা আউটফিল্ডের কারণে প্রথম দুই দিন খেলা হয়নি। তৃতীয় দিনে এসে খেলা শুরু হলে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান তুলেছে বরিশাল। অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন ইফতি ৯৭ বলে ৪৭ রান করে আউট হন। জাওয়াদ আবরার ২০, রাফসান আল মাহমুদ ১৭ এবং ফজলে মাহমুদ রাব্বি করেন ২০ রান। তবে আব্দুল্লাহর ব্যাটে আসে দলের একমাত্র ফিফটি। ১০১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। ঢাকার হয়ে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৩টি এবং তৌফিক আহমেদ ২টি উইকেট নিয়েছেন।