ইনিংস হার বাঁচাতে লড়ছেন সাব্বির 

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডের তৃতীয় দিন শেষে রোমাঞ্চকর এক পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে। মোহাম্মদ নাঈমের ডাবল সেঞ্চুরি আর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত নৈপুণ্যে রাজশাহীকে ইনিংস হারের মুখে ঠেলে দিয়েছে ঢাকা বিভাগ। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখিয়েছেন অমিত হাসান, আশরাফুল হাসান রিহাদ ও ফজলে রাব্বি।

ঢাকার বিপক্ষে বড় লজ্জার শঙ্কায় রাজশাহী

চলতি আসরে প্রথম জয়ের সুবাস পেতে যাওয়া ঢাকা বিভাগ রাজশাহীর বিপক্ষে দারুণ অবস্থানে রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ঢাকার করা ৫২১ রানের পাহাড়সম সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রাজশাহী। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখের চোখধাঁধানো ২৮২ ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ১৬৫ রানের সুবাদে এই বিশাল সংগ্রহ পেয়েছিল ঢাকা।

জবাবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৬২ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহী। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাব্বির রহমান। ঢাকার বোলারদের মধ্যে সুমন খান একাই শিকার করেন চার উইকেট। এছাড়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লব তিনটি, তাইবুর রহমান দুটি এবং রিপন মন্ডল একটি উইকেট লাভ করেন।

৩৫৯ রানের বিশাল লিডের সুবাদে ফলোঅনে পড়ে রাজশাহী। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বিপদ এখনও কাটেনি দলটির। দিনশেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৫ রান তুলেছে রাজশাহী। ইনিংস হার এড়াতে দলটির প্রয়োজন আরও ১৪৪ রান, হাতে আছে মাত্র ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ফিফটি হাঁকানোর পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের ভরসা হয়ে অপরাজিত ৬৪ রানে ক্রিজে আছেন সাব্বির রহমান। তার সঙ্গে টিকে আছেন এস এম মেহেরব হাসান (২২)। এর আগে সাব্বির হোসেন ৫২ ও নাঈম আহমেদ ৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। 

সিলেট ও খুলনার ম্যাচ ড্রয়ের পথে

কক্সবাজারে বৃষ্টির কারণে প্রথম দিনের পুরো সময় ভেসে যাওয়া ম্যাচটি এখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে। তৃতীয় দিন শেষে সিলেট প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটে ৫৭৫ রান তোলার পর আলোকস্বল্পতায় খেলা শেষ হয়। এর আগের দিন সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক জাকির হাসানের ১৬০ রানের পর তৃতীয় দিনেও ব্যাট হাতে রাজত্ব করেছেন সিলেটের ব্যাটাররা। অমিত হাসান ২৯৬ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় ১৭১ রান এবং আশরাফুল হাসান রিহাদ ২০০ বলে ১৩ চারে ১০১ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন।

বগুড়ায় চট্টগ্রামের লড়াই

বগুড়ায় ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের মধ্যকার ম্যাচটিও জমে উঠেছে। এর আগে মাহফিজুল ইসলাম রবিনের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৪৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ময়মনসিংহ। জবাবে চট্টগ্রামও দারুণ জবাব দিয়ে তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪২৪ রান সংগ্রহ করেছে। দলটির পাঁচ ব্যাটার ফিফটি হাঁকালেও কেউ তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৯৫ রান এসেছে শাহাদাত হোসেনের ব্যাট থেকে। এছাড়া মাহমুদুল হাসান ৭৬, তাসামুল হক ৬৩, সাব্বির শিকদার ৫৪ এবং ইরফান শুক্কুর ৫৩ রান করেন।

বরিশালের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানো

প্রথম তিন ম্যাচে জয়হীন থাকার পর অবশেষে প্রতিপক্ষের ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করল বরিশাল। সিলেট একাডেমি গ্রাউন্ডে রংপুরের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। এর মাধ্যমে প্রথম ইনিংসে ৪১ রানের লিড পায় দলটি। দলের হয়ে অভিজ্ঞ ফজলে রাব্বি ১৩০ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে নিজের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ২০০ বল খেলে ১৫ চার ও ৪ ছক্কায় ১২৪ রানের দুর্দান্ত এই ইনিংস খেলার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। দিনশেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৫ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছে রংপুর।

 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত