ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে সাত বছর আগে ৯ নির্দেশনার বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পরিবেশ সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মৌখিকভাবে এ নির্দেশ দেয়। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত। আদালতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
তিনি বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ বন্ধে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ২০২০ সালে হাইকোর্ট রুল দিয়ে ঢাকা ও তার আশপাশ এলাকার বায়ুদূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। তবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলে সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বায়ুদূষণ রোধে নয়টি নির্দেশনা দিয়ে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
এসব নির্দেশনার মধ্যে ছিল- ঢাকা শহরে মাটি-বালি-বর্জ্য পরিবহনকারী ট্রাক ও অন্যান্য গাড়িতে মালামাল ঢেকে রাখা, নির্মাণাধীন এলাকায় মাটি-বালু-সিমেন্ট-পাথর-নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, সিটি করপোরেশন কর্তৃক সড়কগুলোতে পানি ছিটানো, সড়ক-কালভার্ট-কার্পেটিং-খোঁড়াখুঁড়ি কাজে টেন্ডারের শর্ত পালন নিশ্চিত করা, কালো ধোঁয়া নিঃসরণকৃত গাড়ি জব্দ করা, ঢাকা ও তার আশপাশের জেলার অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করা ইত্যাদি।
শুনানির বরাতে আইনজীবী বলেন, ঋতু পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেলেও ইতিপূর্বের হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে ঢাকার বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ সকল দূষণের কারণে নাগরিকদের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের আদেশের ধারাবাহিকতায় আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলসংক্রান্ত বিষয়ে শুনানির জন্য রিট মামলাটি কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে মৌখিক আদেশে বিবাদীদেরকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ইতিপূর্বে দেওয়া বায়ুদূষণ বন্ধে নয় দফা নির্দেশনার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে আদালতে হলফনামা (এফিডেভিট) দাখিলের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।