কলেজ কমিটি নিয়ে বগুড়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

বগুড়ার গাবতলীতে একটি কলেজের পরিচালনা কমিটি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের আয়োজিত মানববন্ধনে অপর পক্ষের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। 

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারায় ইউনিয়নের তছলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার ৪৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। শতভাগ অকৃতকার্যের ফল প্রকাশের পর থেকেই কলেজের পরিচালনা পর্ষদ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ ও শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

এরই মধ্যে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর অনুসারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনে বক্তারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীরা সেখানে গিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন কেড়ে নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলে রূপ নেয়।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে মানববন্ধনের বক্তব্যের প্রতিবাদে পৃথক বিক্ষোভ করেন প্রতিপক্ষের অনুসারীরা।

এদিকে কলেজের একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকের অভিযোগ, পরিচালনা কমিটি নিয়ে দলীয় বিরোধ এবং শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। তাদের দাবি, নিয়মিত পাঠদান না করে অনেক শিক্ষক দলাদলি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন। কেউ কেউ নামমাত্র হাজিরা দিয়ে স্থানীয় বাজারে আড্ডা দেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে অভিভাবকদের হয়রানি ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে।

কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বলেন, পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ নিয়োগ ও পরিচালনা কমিটির বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে তাকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে সম্মত না হওয়ায় একটি চিঠির মাধ্যমে তাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে তাকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট পরিবারের একজনকে বিধিবহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মানববন্ধনে বক্তারা ইউপি চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডলের বিরুদ্ধে নাগরিক সেবা দিতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর অনুসারী সোনারায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সনদ বা নিবন্ধন নিতে গেলে সাধারণ মানুষকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরাও যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনের অনুসারী ও সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল। তিনি বলেন, কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তারা আগে একটি মানববন্ধন করেছিলেন। সেটির জের ধরেই পাল্টা কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সেবা দিতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান বলেন, এক পক্ষের মানববন্ধনে অপর পক্ষ বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এবং বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত