পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজনের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাতেই ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া খাঁপাড়া গ্রামের মো. হামিদুল প্রামাণিকের ছেলে অয়ন (১৭)। সে আরামবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ ছাড়া মাঝদিয়া স্কুলপাড়া এলাকার মো. সুরত আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (২৬) এবং ঈশ্বরদী পৌরসভার পূর্ব টেংরী তছেরপাড়া এলাকার মো. আমানউল্লাহ খাঁর ছেলে আকাশ খাঁ (২৬) আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আকাশ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত অয়নের বড় ভাই অন্তর জানান, তাদের এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধ চলছে। মাঝদিয়া স্কুলপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে একটি কফি হাউস রয়েছে। সেখানে লোকজন অবসর সময় কাটান। সোমবার রাতে নদীর তীর থেকে একদল লোক এসে সেখানে অতর্কিত গুলি চালায়। এ সময় শিক্ষার্থী, বয়োজ্যেষ্ঠ ও যুবকদের ওপর হামলা করা হয়। এতে তার ছোট ভাই অয়নসহ আরও পাঁচ থেকে সাতজন গুরুতর আহত হন।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে আহত ভাইকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে গেলে তার ওপরও গুলি চালানো হয়। পরে তিনি অয়নকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত অয়ন জানায়, মাঝদিয়া বড়পাড়া কফিশপের কাছে একদল লোক এসে তাদের মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে পেছন থেকে কেউ একজন তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
গুলিবিদ্ধ আকাশ বলেন, সন্ধ্যায় সাঁড়ার কফি হাউসে কফি খেতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করলে তার মাথায় গুলি লাগে। নদীকেন্দ্রিক জলদস্যু কাকন বাহিনীর সদস্যরা এ গুলি চালিয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
আহত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় জামাত নেতা ইলিয়াস খান, মঞ্জু, পায়েল হোসেন রিন্টু ও কনক মণ্ডলের লোকজন জলদস্যু কাকন বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার ঘটনার পর এলাকাবাসী ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা থানার সামনে জড়ো হয়ে বালু উত্তোলনবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। বর্তমানে সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রামে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একটি পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।