দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের সূত্র

পরিচালকের দুর্নীতি, বার্নে যাচ্ছেন তদন্ত প্রধান

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের সোয়া তিন মাসের মাথায় ন্যাশনাল বার্র্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়োগ ও টেন্ডারসংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্ত শুরু হচ্ছে। আগামীকাল ৫ নভেম্বর তদন্ত কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বার্ন ইনস্টিটিউটে যাবেন। এদিন বেলা ১১টায় ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কক্ষে এ সংক্রান্ত সভা ডাকা হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, বার্নের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত করারই সাহস দেখাচ্ছিল না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে কারণে তদন্ত কমিটি গঠনে এবং তদন্ত শুরু করতে এত দেরি হয়েছে। একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমলে না নিয়ে কয়েকবার ওই পরিচালককে সঙ্গে নিয়ে প্রোগাম করেছেন। সে কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার গতকাল মঙ্গলবার জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘পরিচালকের লাগামহীন দুর্নীতিতে পুড়ছে ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানের সভাপতিত্বে সভাটি হবে। এতে তদন্তসংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি ৩ নভেম্বর জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি গঠনের প্রায় দেড় মাসের অধিক সময় পর তদন্ত শুরু হচ্ছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন এখন দেশে নেই। তিনি বিদেশ সফরে আছেন।

গত ২৮ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনস্টিটিউটের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেনÑ পরিচালকের দায়িত্বে নাসির উদ্দীন আসার পর থেকে লাগামহীন দুর্নীতি এবং অনিয়মে ডুবে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। টেন্ডার বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারী নিয়োগ, ওষুধ ঘাটতি, বেশি দামে নিম্নমানের অপারেশন সরঞ্জাম কেনা থেকে শুরু করে চিকিৎসক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও পরিচালকের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

পরিচালক নাসির উদ্দীন ও তার ‘ডান হাত’ দীপুর প্রভাব থেকে হাসপাতালটিকে রক্ষা করতে চিকিৎসকরা একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন। পরিচালকের দুর্নীতি, অনিয়ম প্রতিকার চেয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন হাসপাতালের ১৫ চিকিৎসক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বার্ন ইনস্টিটিউটে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন কেনা হয় এক কোটি ৪২ লাখ টাকায়। অথচ বাজার থেকে একই ব্র্যান্ড ও স্পেসিফিকেশনের মেশিন কিনতে সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত