ইলিশের পিকআপ লুটে জড়িত ডাকাত সর্দার গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাছ ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ইলিশবোঝাই পিকআপ ও নগদ টাকা লুটের ঘটনার দুই মাস পর আন্তজেলা ডাকাত দলের এক সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)। গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়ার (২৭) বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ১৯টি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) এসআরবি-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক ও উপপরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর চৌমুহনী গ্রামের মৃত হেকিম আব্দুল মান্নানের ছেলে।  

মামলার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট থেকে ইলিশ মাছ কিনে পিকআপে করে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার নিয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের পিকআপ দিয়ে তাদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়।

পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল চালক ও মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করে। একপর্যায়ে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার ইলিশবোঝাই পিকআপ এবং নগদ ৭১ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতেরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় পরদিন মুরাদনগর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় ডাকাতির মামলা করা হয়। ঘটনাটি সে সময় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এসআরবি জানায়, ঘটনার পর থেকে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১১ (সিপিসি-২) কুমিল্লা এবং এসআরবি-১০ (সিপিসি-১) যাত্রাবাড়ীর একটি যৌথ দল সোমবার রাতে শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইদ্রিস মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশ রেকর্ড পর্যালোচনার বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, ইদ্রিস একটি আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার। তার নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। ডাকাতি করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। তার দল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশফেরত প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে ডাকাতি করে থাকে। মুরাদনগরের ঘটনার পর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

এসআরবি আরও জানায়, গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত