সেন্টমার্টিনে রিসোর্ট মালিক-ম্যানেজারদের অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে স্থানীয় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের মালিক এবং ম্যানেজারদের জন্য মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে এক বিশেষ অগ্নিনিরাপত্তা ও সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ ও পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্বীপে অগ্নিঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্যের একটি বিশেষ দল যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে।

গত ১৭ অক্টোবরে ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষিতে এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান-সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন মৌসুমে এখানে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। তাদের নিরাপত্তা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি হোটেল-রিসোর্টে নিজস্ব প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইন অমান্যকারী বা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" 

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমন বলেন- যেহেতু দ্বীপে কোনো পূর্ণাঙ্গ ফায়ার স্টেশন নেই, তাই অগ্নিকাণ্ডের প্রথম কয়েক মিনিট স্থানীয় সচেতনতা ও তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমাদের গঠিত ৪ সদস্যের টিম ৩ নভেম্বর থেকে রিসোর্ট মালিক এবং কর্মচারীদের হাতে-কলমে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার, গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটকদের দ্রুত ও নিরাপদে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) কৌশল শেখাতে কাজ করছে।"

সেন্টমার্টিন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন-"প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে আমরা সবসময় একটা আতঙ্কে থাকতাম। তবে আজকের এই পরিদর্শনের পর আমাদের স্টাফরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আমরা আমাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখার এবং নিয়মিত মহড়া নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।"

প্রশিক্ষণ শেষে উপস্থিত সবার মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে দ্রুত যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত