সোনম ওয়াংচুকের স্কুল বন্ধের নির্দেশ

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বিজেপির তোপের মুখে পড়েছে ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সোনম ওয়াংচুক। পরিবেশ আন্দোলনকর্মী হিসেবে বিশ্বজোড়া পরিচিতি পাওয়া সোনমের হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অলটারনেটিভস, লাদাখের (এইচআইএএল) জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। এর মধ্যেই নতুন করে জটিলতায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। লেহতে ওয়াংচুকের ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলে ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করেছে লাদাখ সরকার। সরকারের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই স্কুলটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

লেহর তহসিলদার জারি করা নোটিসটি পাঠানো হয়েছে ওয়াংচুকের স্ত্রী এবং এইচআইএএলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চিকিৎসক গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোর কাছে। নোটিসে তাকে ‘স্থিতাবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখতে’ বলা হয়েছে। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলাটির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনো কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এইচআইএএলের কার্যক্রমের আওতায় ফিয়াংয়ে ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের প্রস্তাবিত পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বা অনুমোদন চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর লেহর ডেপুটি কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন অ্যাংমো। তবে প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সম্মতি বা অনুমোদন ছাড়াই স্কুলটিতে ইতিমধ্যে ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, আদালত মামলাটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা শুরু করার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিতে অ্যাংমোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালে হিমালয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক একটি বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ফিয়াং থাং এলাকায় এইচআইএএলকে ৪০ বছরের জন্য ওই জমিটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট লাদাখ সরকার জমি বরাদ্দ বাতিল করে। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ইজারার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেনি এবং যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও গড়ে তোলেনি। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যায় এইচআইএএল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মামলাটির শুনানির সময় বিতর্কিত জমির ওপর তৃতীয় পক্ষের স্বত্ব তৈরি না করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় আদালত। তবে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন ওই আদেশে জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়নি।

গত অক্টোবর মাসে ১৩৬ পৃষ্ঠার একটি হলফনামা দিয়ে জমি বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রশাসন। এতে দাবি করা হয়, ইজারার দলিল সম্পাদন না করা এবং এক বছরের মধ্যে বাধ্যতামূলক জমির প্রিমিয়াম জমা না দেওয়ায় ২০১৯ সালের মে মাসেই এইচআইএএলের জমি বরাদ্দের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া লাদাখের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ২০২৬ সালের অক্টোবরের একটি প্রত্যয়নপত্রের কথা উল্লেখ বলা হয়েছে, এইচআইএএল স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয় এবং প্রতিষ্ঠানটির কোর্সগুলোরও আইনগত অনুমোদন বা অধিভুক্তি নেই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত