নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর রিপাবলিকান পার্টিতে দোষারোপের রাজনীতি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর দলটির ভেতরে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। নির্বাচনী ব্যর্থতার জন্য দলের অনেক নেতা সরাসরি হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। 

বুধবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে দলটি অন্তত আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

দলের সিদ্ধান্তের সমালোচকদের উদ্দেশে ভ্যান্স লেখেন, যারা আগে থেকেই এসব পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন, তাঁদের বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস নির্বাচনে তাঁর রাজ্যের তুলনামূলক ভালো ফলকে সামনে এনে রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের অনেক এলাকায় রিপাবলিকানদের জন্য এবারের নির্বাচন প্রায় অস্তিত্বসংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

নির্বাচনে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসার পর ডিস্যান্টিস কংগ্রেস সদস্যদের শেয়ারবাজারে লেনদেন নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। একই নিষেধাজ্ঞা নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করার প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্পের বিনিয়োগ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এতে স্বার্থের সংঘাত নেই।

২০২৮ সালের সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজও নির্বাচনের ফলাফলকে দলের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণের অবাধ সম্প্রসারণ নিয়ে জনঅসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, সাধারণ কর্মজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে—এমন অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।

দলের প্রবীণ নেতারাও ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন। টেক্সাসের সিনেটর জন কর্নিন এক নিবন্ধে রিপাবলিকানদের একাধিক রাজনৈতিক ভুলের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির প্রার্থী মিট রমনি ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং কথিত দুর্নীতির সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ভুল নীতি ও দুর্বল রাজনৈতিক আচরণ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যর্থতা ডেকে আনে।

এদিকে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরও ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি। বুধবার হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম নির্মাণকাজ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের ফলাফলকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর পাশাপাশি ভ্যান্সের সঙ্গে তাঁর কোনো মতবিরোধ নেই বলেও জানান।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন—এমন একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও নাকচ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হেগসেথ ভালো কাজ করছেন। প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনাও প্রকাশ্যে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

তবে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তা পদ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের ভবিষ্যৎ নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। যদিও ট্রাম্প আগে বলেছেন, তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকবেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত