শেষ ৩ মিনিটে দুই গোল দিয়েও ভারতের কাছে হারলো পাকিস্তান

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ভারত। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে নিয়েছিল ভারত। তবে যোগ করা সময়ে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কমলেও হার এড়াতে পারেনি দলটি।
 
বৃহস্পতিবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতের হয়ে জোড়া গোল করেন মুহাম্মদ সুহাইল ভাট। অন্য গোলটি করেন ম্যাংলেংথাম কিপজেন। পাকিস্তানের হয়ে শেষ দিকে গোল করেন নাজিব উল্লাহ ও আলমগীর গাজী। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ভারত। ১৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো বলে আলতো ছোঁয়ায় জাল খুঁজে নেন সুহাইল ভাট। এর ছয় মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে পাওয়া দুর্দান্ত থ্রু বল ধরে পাকিস্তানের রক্ষণভাগ ভেঙে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।

৩২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন কিপজেন। সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে পাকিস্তানের জালে পাঠান তিনি। এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। মিনিট দুয়েক পর ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। পেনাল্টি পেলেও স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন শায়ক দোস্ত। তাঁর নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি পাকিস্তান।
 
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ভারতের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না পাকিস্তান। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানেই এগিয়ে ছিল ভারত। তবে যোগ করা সময়ে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করে পাকিস্তান। ৯১ মিনিটে জুনায়েদ শাহর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন নাজিব উল্লাহ। এর তিন মিনিট পর ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে পাঠান আলমগীর গাজী। মুহূর্তেই ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সমতায় ফেরার আশায় শেষ মুহূর্তে আক্রমণ চালালেও আর গোল করতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।
 
এ জয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালের ঢাকার সাফের উদ্বোধনী ম্যাচের হারের জবাবও দিল ভারত। সেবার পাকিস্তানের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা। দীর্ঘ ২২ বছর পর একই শহরে সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে আবারও মুখোমুখি হয়ে এবার জয় তুলে নিল ভারত। ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে করমর্দন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ফুটবলের মাঠে দেখা গেছে সম্প্রীতির চিত্র। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রা পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন। খেলার মধ্যেও প্রতিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড় চোট পেলে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন অন্য দলের ফুটবলাররা।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত