চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল চকলেট তৈরির অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় কারখানাটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি সিলগালা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও ডিজিএফআইয়ের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা চুইরগ্গারো বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআইয়ের পরীক্ষক (রসায়ন) শাহরিয়ার কবির টিপু, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) এম. এ. আল নোমান, ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. হাসিবুল হাসান, সহকারী পরিচালক (সিএম) রিগ্যান বৈদ্য, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাছির এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ছৈয়দ আকবর প্রমুখ।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র কোনো বৈধ অনুমোদন ও বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র ছাড়াই ওই বাড়িতে নকল চকলেট তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিল। এসব চকলেটে ক্ষতিকর রং ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হতো, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অভিযানকালে কারখানাটিতে তল্লাশি চালিয়ে নকল চকলেট তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, মোড়ক ও উৎপাদিত পণ্য জব্দ করা হয়। জনস্বাস্থ্য ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাটি সিলগালা করা হয়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে পাঁচ কার্টন সফট ক্যান্ডি, পাঁচ লাখ পিস ওটস বার প্যাকেট, ১ লাখ ৪০ হাজার পিস মোড়ক, কুমারিকা তেল, ওট চকো সফট মিক্সড ফ্লেভার, সেলেবেস্ট কোকোনাট ফ্লেভার ক্যান্ডি এবং ওটবার ক্রিসপি অ্যান্ড টেস্টিসহ বিভিন্ন ধরনের নকল চকলেট ও মালামাল।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং এ ধরনের অবৈধ ও ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।