প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে মার্কিন সেনাসচিব ড্রিসকলের পদত্যাগ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ এএম

মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। একটি সূত্রের মতে, দুজনের মধ্যে চলমান বিরোধের কারণে ড্রিসকলের পদত্যাগ অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল।

পদত্যাগপত্রে ড্রিসকল সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক সূত্র। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগে হেগসেথ বাধা দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিশেষ করে এসব কাজের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন জেনারেলকে বরখাস্ত করার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন।

একজন সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন এবং এরপর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ড্রিসকল একজন সাবেক সেনাসদস্য এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের সঙ্গে তার বিরোধের কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন চলছিল।

জেনারেল বরখাস্ত নিয়ে বিরোধ

চলতি বছরের শুরুতে হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জসহ আরও দুই জেনারেলকে বরখাস্ত করেন। জর্জের সঙ্গে ড্রিসকল ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন।

জেনারেল জর্জকে বরখাস্তের ঘটনায় কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলের আইনপ্রণেতারা হেগসেথকে প্রশ্নের মুখে ফেলেন। তারা জর্জের সামরিক অবদান ও নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন।

এপ্রিল মাসে কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে ড্রিসকলও জেনারেল জর্জের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করেন। তিনি জর্জকে একজন ‘অসাধারণ ও পরিবর্তনকারী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভ্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও বিরোধের কারণ

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার আশপাশের বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

ড্রিসকলের ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর করে তোলে। ড্রিসকল ও ভ্যান্স ইয়েল ল স্কুলে সহপাঠী ছিলেন এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব বজায় রেখেছেন।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, হেগসেথ মনে করতেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার একটি প্রচেষ্টা।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। গত বছর ট্রাম্প তাকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে ইউক্রেনকে রাজি করানোর প্রচেষ্টায় যুক্ত করেছিলেন।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে জোর

হেগসেথের নেতৃত্ব যেখানে তথাকথিত ‘কালচার ওয়ার’ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের জন্য আলোচিত হয়েছে, সেখানে ড্রিসকল ও জেনারেল জর্জ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে সিএনএন জানিয়েছে।

ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে ড্রিসকলের কাজের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে ‘ড্রোন গাই’ বলেও অভিহিত করতেন।

হেগসেথের মেয়াদে সেনাবাহিনীর আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল জেমস মিংগাস, আর্মি ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হোডন এবং জয়েন্ট স্টাফের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডগলাস সিমস।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চলের সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুও দায়িত্ব ছেড়েছেন। হেগসেথের দপ্তর ও ডোনাহুর দপ্তরের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ড্রিসকল কবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাধারণত সেনাবাহিনীর আন্ডার সেক্রেটারি ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। বর্তমানে এ পদে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আর্মি কর্নেল মাইক ওবাদাল।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি অবশ্য ড্রিসকলের প্রশংসা করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এবং ঐতিহাসিক সামরিক অভিযান, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত