সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করার পরিণতি

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

সন্তান মা-বাবার কাছে আল্লাহর দেওয়া আমানত। প্রতিটি সন্তানই স্নেহ, ভালোবাসা ও যতœ পাওয়ার অধিকার রাখে। দেখা যায়, অনেক পরিবারে মা-বাবা অজান্তেই সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করেন। কাউকে বেশি ভালোবাসেন, কাউকে বেশি গুরুত্ব দেন। কারও আবদার পূরণ করেন, আবার কারও চাওয়া উপেক্ষা করেন। কখনো একজনের প্রশংসা করতে গিয়ে অন্যজনকে ছোট করেন। এ ধরনের আচরণ সন্তানের মনে গভীর কষ্ট তৈরি করে। ধীরে ধীরে তা পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইসলাম সন্তানদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিয়েছে এবং অন্যায় পক্ষপাতিত্ব থেকে সতর্ক করেছে।

কোনো সন্তান যখন দেখে, মা-বাবা অন্য ভাইবোনকে বেশি ভালোবাসেন কিংবা বেশি গুরুত্ব দেন, তখন তার মনে কষ্ট ও অভিমান তৈরি হয়। একসময় সেই অভিমান হিংসা-বিদ্বেষে রূপ নিতে পারে। ভাইবোনের প্রতি ভালোবাসার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা ও বিরোধ তৈরি হয়। অথচ ভাইবোনের সম্পর্ক হওয়া উচিত ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার।

সন্তান সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে মা-বাবার কাছে। কিন্তু মা-বাবার কাছেই যখন সে অবহেলার শিকার হয়, তখন তার মনে গভীর কষ্ট জমে। সে নিজেকে পরিবারের অন্য সন্তানদের তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করে। মা-বাবার সঙ্গে মনের দূরত্ব তৈরি হয়।

আমির (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনে বশির (রা.)-কে মিম্বরের ওপর বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে কিছু হেবা (দান) করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনতে রাওয়াহা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সাক্ষী রাখা ছাড়া সম্মত নই। তখন তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি। হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকে সাক্ষী রাখার জন্য সে আমাকে বলেছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ রকম করেছ? তিনি বললেন, না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং আপন সন্তানদের মধ্যে সমতা রক্ষা করো। নুমান (রা.) বলেন, অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং তার দান ফিরিয়ে নিলেন। (সহিহ বুখারি ২৫৮৭)

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত