মৃত্যুর স্মরণ জীবন বদলে দেয়

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

মৃত্যু অবধারিত সত্য। মানুষ প্রায়ই এই সত্য ভুলে থাকে। সম্পদ অর্জন, স্বপ্ন পূরণ, ক্ষমতা ও সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে সে ভুলে যায়, এই পৃথিবীতে তার অবস্থান চিরস্থায়ী নয়। একদিন সবকিছু ছেড়ে একাকী চলে যেতে হবে। মৃত্যুর এই স্মরণ মানুষকে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করে। বদলে দেয় চিন্তা, আচরণ ও জীবনযাপনের ধরন।

মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত করে। দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষের অন্তরকে কঠিন করে তোলে। সে সম্পদ জমায়, নিজের অবস্থান নিয়ে অহংকার করে এবং অন্যের অধিকার নষ্ট করতেও দ্বিধা করে না। অথচ মৃত্যুর পর এসব সম্পদ ও ক্ষমতার কোনো মূল্য থাকবে না। সঙ্গে যাবে না বাড়ি, গাড়ি, অর্থ, সম্মান। সঙ্গে যাবে কেবল নিজের আমল।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কেয়ামতের দিনই তোমাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা আলে ইমরান ১৮৫)

এই আয়াত মানুষকে সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড জানিয়ে দেয়। দুনিয়ার জীবনে কে কত সম্পদ অর্জন করল, কত বড় পদ পেল কিংবা কত মানুষের কাছে পরিচিত হলো, সেটিই প্রকৃত সফলতা নয়। প্রকৃত সফলতা হলো মৃত্যুর পর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং জান্নাত লাভ করা।

মৃত্যুর স্মরণ গুনাহ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। মানুষ যখন মনে রাখে, তার প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে, তখন অন্যায় করার আগে সে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করে। কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা, মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, গিবত করা কিংবা অন্যের অধিকার নষ্ট করার ক্ষেত্রে সে সতর্ক হয়। কারণ সে জানে, মানুষের কাছ থেকে অন্যায় গোপন করা সম্ভব হলেও আল্লাহর কাছ থেকে কিছুই গোপন করা যাবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অধিক পরিমাণে মৃত্যুর স্মরণ করো, যা দুনিয়ার স্বাদ বিনষ্টকারী।’ (জামে তিরমিজি ২৩০৭)

মৃত্যুর স্মরণ দুনিয়ার বৈধ আনন্দ ও জীবনযাপনের প্রতি অনীহা তৈরি করার জন্য নয়। বরং এটি মানুষকে জীবনের সীমাবদ্ধতা বুঝিয়ে দেয়। সে বুঝতে শেখে, দুনিয়ার আনন্দ উপভোগ করা যাবে, তবে আখেরাতের কথা ভুলে গিয়ে নয়। সম্পদ অর্জন করা যাবে, তবে হারাম উপায়ে নয়। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা যাবে, তবে কারও অধিকার নষ্ট করে নয়।

মৃত্যুর স্মরণ মানুষের অহংকারও কমিয়ে দেয়। পদমর্যাদা, বংশ, সৌন্দর্য ও সম্পদ নিয়ে যে মানুষ অন্যকে ছোট করে, সে যদি নিজের শেষ পরিণতির কথা চিন্তা করে, তাহলে তার আচরণে পরিবর্তন আসবে। আজ যে মানুষটি অন্যের ওপর কর্র্তৃত্ব করছে, কাল তাকেও কবরে শায়িত হতে হবে। সেখানে পরিচয় হবে না পদবি দিয়ে, মূল্যায়ন হবে না সম্পদের ভিত্তিতে। আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হবে তাকওয়া ও আমলের মাধ্যমে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত