পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় বাড়ির আঙিনার ২০ শতক জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক মো. ফারুক হোসেন। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, করলা, লাফা ও শিম চাষ করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে ক্ষেতের উৎপাদিত লাউ ও শাক বিক্রি করে আয়ও শুরু করেছেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ছাড়াই নিজের উদ্যোগ ও শ্রমে গড়ে তুলেছেন এই সবজিক্ষেত।
ফারুক হোসেন উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বাড়ির পাশের পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই সবজি চাষ শুরু করেন। প্রায় ২০ শতক জমিতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন। একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করায় সারা মৌসুমজুড়েই উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে তার।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফারুকের সবজিক্ষেতে মাচায় বেড়ে উঠছে লাউগাছ। গাছে ঝুলতে শুরু করেছে ছোট-বড় লাউ। পাশাপাশি বেড়ে উঠছে কুমড়া, করলা, লাফা ও শিমগাছ। ক্ষেতের একাংশে চাষ করা লালশাক ইতোমধ্যে বিক্রি করে ফেলেছেন তিনি। প্রথম দফায় কিছু লাউ ও অন্যান্য শাকসবজিও বিক্রি করেছেন। এতে নিজের পরিশ্রমের সুফল পেতে শুরু করেছেন এই কৃষক।
ফারুক হোসেন জানান, সবজি চাষের পেছনে এখন পর্যন্ত তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় আট হাজার টাকা। নিজের উদ্যোগেই জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজ করেছেন। উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে খরচের টাকা ওঠার পাশাপাশি লাভের আশাও করছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, লালশাক তুলে ফেলার পর ওই জমিতে ঢেরস চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে একেকটি ফসল তুলে সেখানে নতুন সবজি আবাদ করবেন। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি সবজি বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
তবে কৃষি বিভাগের কোনো ধরনের সহায়তা বা পরামর্শ পাননি বলে জানিয়েছেন ফারুক। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে সবজি চাষ আরও সম্প্রসারণ করতে পারবেন বলে তার আশা।
স্বল্প জমি ও সীমিত পুঁজি নিয়েও যে পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে সবজি চাষে সফল হওয়া সম্ভব, ফারুক হোসেনের উদ্যোগ তার একটি উদাহরণ। বাড়ির অব্যবহৃত জমিতে মৌসুমি সবজি চাষ করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।