আন্তর্জাতিক আর্থিক নজরদারি সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) কালো তালিকা থেকে মিয়ানমারকে বাদ দেওয়ার জন্য জাপান তদবির করছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মিয়ানমারকে কালো তালিকা থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জাপানসহ কয়েকটি দেশ। খবর জাপান টাইমস।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাপক গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে দেশটিকে এফএটিএফের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে বাড়তি নজরদারি আরোপ করতে হয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় সাংবাদিকদের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মিয়ানমারকে এফএটিএফের কালো তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জাপান সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অর্থপাচার ও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করতে মিয়ানমার যথাযথ সংস্কার ও উন্নয়ন করবে বলে আশা করে জাপান।
গত ৩০ অক্টোবর প্যারিসে এফএটিএফের ৪০ সদস্যের বৈশ্বিক সংস্থাটির রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরও কালো তালিকায় থেকে যায় মিয়ানমার। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বৈঠকে মিয়ানমারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে কোনো অবস্থান জানায়নি টোকিও।
তবে গত ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাপান সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তির বরাতে বলা হয়েছিল, মিয়ানমারকে কালো তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে জাপান। বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হলে তাঁদের একজন আগের বক্তব্যে অনড় থাকার কথা জানান। অন্যজনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাসমর্থিত সরকারের এক মুখপাত্র শনিবার এক বার্তায় দাবি করেন, কালো তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রচেষ্টায় দেশটির পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি ‘বন্ধুরাষ্ট্র’।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া মিয়ানমারের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশটির বর্তমান অগ্রগতিকে স্বীকার করে নেওয়ায় আমরা তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এফএটিএফের নিয়মকানুন মেনে চলতে মিয়ানমারকে উৎসাহিত করছে সিউল। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে এফএটিএফের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে এফএটিএফের মানদণ্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি—এমন দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।
মিয়ানমারের মুখপাত্রের বক্তব্যে উল্লেখ করা বাকি দেশগুলো এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অথবা মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
এদিকে মিয়ানমারকে কালো তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে জাপানের তদবিরের খবর অস্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সামরিক জান্তাসমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।