সিউল ঘোষণা অনুমোদনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আইসিএপিপির ১৩তম অধিবেশন

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে সিউল ঘোষণা অনুমোদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এশিয়ার রাজনৈতিক দলসমূহের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের (আইসিএপিপি) ১৩তম সাধারণ অধিবেশন। এশিয়ার ৩৬টি দেশের ৮৩টি রাজনৈতিক দলের তিন শতাধিক প্রতিনিধির সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণাটি অনুমোদিত হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে এ ঘোষণা অনুমোদন করা হয়। এতে পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল জাতীয় নেতৃত্ব, শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠন, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভাজন অতিক্রম করে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা হয়।

সিউল ঘোষণায় নেতারা বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর সরকার, সংসদ ও নাগরিকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে আস্থা তৈরিতে তাঁদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির দলগুলোর মধ্যে সংলাপের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আইসিএপিপির ভূমিকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা। একই সঙ্গে এশিয়া ও বিশ্বের জন্য আরও শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, ন্যায়সংগত, টেকসই ও মানবকেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ গড়তে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করেন।

সম্মেলনের পঞ্চম ও শেষ প্ল্যানারি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আইসিএপিপির নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ। সিউলের হোটেল শিলার ডাইনেস্টি হলে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে তাঁকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা এবং সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়ায় সদস্য রাজনৈতিক দল ও প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এ সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বহিঃপ্রকাশ।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের গঠনমূলক বক্তব্য, মূল্যবান মতামত ও প্রস্তাবের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সম্মেলনের ঘোষণা প্রণয়নে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা, সহযোগিতা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মনোভাব প্রশংসনীয়। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, গণতন্ত্র, শান্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অভিন্ন অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা বাস্তবায়নে সদস্য রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। এশিয়ায় শান্তি, গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় আইসিএপিপি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

শেষ প্ল্যানারি অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ১৯ জন প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সম্মেলনের আরও দুটি প্ল্যানারি অধিবেশনে ৩১ জন রাজনৈতিক প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইমতিয়াজ আহমেদ সজল এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মমতাজ উদ্দিন। বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতা ইসমাইল জবিউল্লাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রথম প্ল্যানারি অধিবেশনে এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী দ্বিতীয় প্ল্যানারি অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

দিনের বিভিন্ন অধিবেশনে দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, আর্মেনিয়া, নেপাল, কিরগিজস্তান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, তাজিকিস্তান, ইরান, ভুটান, কাজাখস্তান, ইরাক, পাপুয়া নিউগিনি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, লেবানন, মালদ্বীপ, পূর্ব তিমুর, উজবেকিস্তান, ফিলিস্তিন ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সম্মানে বুধবার রাতে সিউলের শিলা হোটেলে গালা ডিনারের আয়োজন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার চো জেয়ং-সিক।

এতে এশিয়ার রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে লেজার শোসহ মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অতিথিদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে এশিয়ার রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সম্মেলনের সমাপনী দিনে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আইসিএপিপির চেয়ারম্যান চুং জং-সেক, মহাসচিব ওহ সং, ভাইস চেয়ারম্যান মুশাহিদ সাঈদ, সম্মেলনের যৌথ আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টির প্রধান কিম মিন-সক এবং বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির প্রধান জাং ডং-হিয়ককে শুভেচ্ছা স্মারক দেন।

এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর এ সম্মেলন আয়োজনের জন্য তাঁদের প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত