হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর গ্রামের প্রবেশপথে বহুবছরের পুরোনো ও জীর্ণ একটি ব্রিজ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ব্রিজটির নিচের অংশের আরসিসি ঢালাই খসে পড়েছে। বেরিয়ে এসেছে ক্ষয়ে যাওয়া ইটসুরকি ও ভাঙা লোহার রড। এমন অবস্থায় যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীর দাবি, প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষও রয়েছেন। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রামেশ্বর গ্রামের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ব্রিজটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারছেন না। একইভাবে সার ও কৃষি উপকরণ পরিবহনেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ভারী ও মালবাহী যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে না পারায় কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় সাত দশক আগে নির্মিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্রিজের নিচের কংক্রিটের আস্তরণ ভেঙে রড বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রড ক্ষয়ে ও ভেঙে গেছে। তারপরও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন মানুষকে এই ব্রিজ পারাপার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আঃ হাফিজ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছি। ব্রিজের নিচের ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে গেছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফিরোজ তালুকদার বলেন, আমাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ব্রিজটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তির শেষ নেই। তাই গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
এ অবস্থায় রামেশ্বর গ্রামবাসীর পক্ষে বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে একটি আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনে ব্রিজটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
গ্রামবাসীরা বলেন, এটি শুধু একটি ব্রিজ নয়, রামেশ্বর গ্রামের মানুষের যোগাযোগ, কৃষি ও জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আগেই ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
এ বিষয়ে এলজিইডি প্রকৌশলী শামস জাভেদ বলেন, রামেশ্বর গ্রামের ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
কাটা নদীতে নিচু ব্রিজ নির্মাণ, নৌ-চলাচল বন্ধের আশঙ্কা
৫০ বছরেও কংস নদীতে ব্রিজ হলো না