সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকেই সৈকতের জিরো পয়েন্ট, মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার, শুঁটকিপল্লি, ঝাউবন, গঙ্গামতির চর ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে।
হালকা শীত আর মনোরম আবহাওয়ায় নীল জলরাশির ছোট ছোট ঢেউয়ে মেতে উঠেছেন সব বয়সী পর্যটক। কেউ সৈকতের বালুচরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউবা ওয়াটার বাইক ও স্পিডবোটে চড়ে উপভোগ করছেন সাগরের রোমাঞ্চ।
কুয়াকাটা সৈকতের ট্যুরিস্ট বোট মালিক সাইদুর রহমান শাহিন বলেন, সকাল থেকেই সৈকতে পর্যটকদের বেশ আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। পর্যটকদের নিয়ে কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবনের পূর্ব অংশ ফাতরার বন ও চর বিজয় দ্বীপের উদ্দেশে একাধিক বোট ছেড়ে গেছে। পাশাপাশি সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে স্পিডবোটে চড়েও পর্যটকেরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে সৈকত ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।
সৈকতের ছাতাচেয়ার ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, সকালে পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে সৈকতের প্রায় সব চেয়ার বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকেরা আসতে শুরু করেছেন। এখন থেকে প্রতিদিনই পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি। জোয়ারের পানি কমে সৈকতের বিস্তীর্ণ বালুচর দৃশ্যমান হওয়ায় পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করতে পারছেন।এতে ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সৈকতের ফটোগ্রাফার রুবেল বলেন, পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ায় তাঁরাও বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একজন পর্যটকেরই প্রায় ১০০টি ছবি তুলতে হচ্ছে।সকাল থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে।আশা করছেন, সারাদিন ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হবে।
খুলনা থেকে কুয়াকাটা ভ্রমণে আসা পর্যটক রুবিনা বলেন, কুয়াকাটার লেম্বুরবন ও গঙ্গামতি ঘুরে বেশ ভালো লেগেছে।প্রথমবার কুয়াকাটায় এসে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। তবে সৈকতের জিরো পয়েন্টে কিছুটা বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েছে। গোসলের নির্ধারিত স্থানে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। সব মিলিয়ে কুয়াকাটা ভ্রমণ বেশ উপভোগ করেছেন তিনি।
সৈকতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের প্রত্যাশা, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পর্যটনের ভরা মৌসুম শুরু হলে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।