উদ্বাস্তুরা কোথায় যায়

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৩৯ পিএম

বিশ্বমানচিত্রে উদ্বাস্তু যাত্রা শুরু সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে। পশুদের যাত্রা শুরু হতো পানীয় জল আর খাদ্যের অভাবে। মানুষের শুরু শিকারভূমি আর কৃষিভূমির সন্ধানে। রক্তাক্ত লড়াইটা হতো গোত্রে গোত্রে। বাইবেলে প্রাচীন ইহুদিদের মিসর থেকে বিতাড়নের কাহিনী আছে। আছে দলনেতা নবী মুসার কথা এবং মহান ঈশ্বরের দ্রাক্ষা ক্ষেত্র আর যব শস্যভূমি কিংবা বনমধুর প্রাচুর্য দানের প্রতিজ্ঞার আখ্যান। আর এই আধুনিক যুগে উদ্বাস্তুযাত্রা শুরু ধর্মের নামে, রাজনৈতিক মতবাদের নামে নরহত্যা, নারী ধর্ষণের পথ ধরে। এই আধুনিকে আবার মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় প্রাচীন আর মধ্যযুগ। রামায়ণ আর মহাভারতের মহাকাব্যিক যুদ্ধ এবং নরহত্যা যে ধর্মপ্রতিষ্ঠার নামে, ন্যায় স্থাপনের অসিলায়, তার সাথে আজকের অনেক মিল আছে। যুদ্ধ, হামলা, হত্যা, ধর্ষণ আর হিংস্রতার ফলে যে পলাতকদের উদ্বাস্তুযাত্রা শুরু হয় এই আধুনিক যুগে, তা পুরাতন যুগের দুর্ভিক্ষ আর জাতিদাঙ্গার পরিণামের চেয়েও ভয়াবহ।

অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিশ্বসাম্রাজ্যবাদ এশিয়া এবং আফ্রিকায় দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত, ধর্মগত, বর্ণগত এবং মতাদর্শগত সংঘাত লাগিয়ে রেখেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে যা ঘটেছে এবং ঘটছে তার পেছনে রয়েছে দেশীয় এবং আন্তঃদেশীয় ষড়যন্ত্র। এই চক্রান্তের শেকড় অতি গভীর রাজনৈতিক মৃত্তিকাগর্ভে প্রোথিত। জনগণের গণতন্ত্রের দাবি, ক্ষুধামুক্তির দাবি, অন্ন-বস্ত্র-গৃহ-স্বাস্থ্য ইত্যাদির দাবির ভেতর দিয়ে বিক্ষোভ, ধূমায়িত হলেই কবির ভাষায় ‘সীমান্তে বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা।’ জনগণের প্রতিবাদী দৃষ্টির ভেতর অ্যাসিড ছিটিয়ে অন্ধ বানানোর প্রশাসনিক প্রচেষ্টা চলে। আক্ষেপ এটাই, যে জাতি একাত্তরের অবিনাশী-অবিনশ্বর গৌরবের ইতিহাস স্রষ্টার ভূমিকায় নেমে বিশ্বকে চমকে দেয়, সে জাতিই ধর্মীয়-সাম্প্রদায়িকতায় প্রেতনৃত্যে মেতে ওঠে। বাংলাদেশে এই কুৎসিত-কদর্য অপরাজনীতির শুরু স্বাধীনতা লাভের পরপরই।

একটি নির্মম প্রশ্ন আজ বেআব্রু হয়ে পড়ে। পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক গৌরবের ইতিহাস কি কেবল স্বাধীনতা যুদ্ধ আর ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? অন্য ইতিহাস নেই? এদেশে কি তেভাগা আন্দোলন হয়নি? হাজী দানেশের ইতিহাস কি মাটিচাপা পড়েছে? কমরেড সিরাজ সিকদারের জনযুদ্ধ কি হাওয়ায় উড়ে গেল? মণি সিংহের হাজং বিদ্রোহ কি শিশুতোষ গল্প? সিলেটে নানকার বিদ্রোহটা কী? পাকিস্তান যুগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধে প্রগতিশীল নাগরিকদের সাহসী ভূমিকা কি তুচ্ছ বিষয়? ১৯৬৪ সালে দাঙ্গার সময় যুব ও ছাত্রনেতা রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনোরা যে দাঙ্গা প্রতিরোধে নেমে নিজেরা রক্তাক্ত হলেন তা তো অলীক গপ্পো!

তারপরও প্রশ্ন আসে, অনেক কিছুই হয়েছে পূর্ববঙ্গ বা উপমহাদেশে, কিন্তু হয়েছে কি সামাজিক আর সাংস্কৃতিক আন্দোলন? আসল কাজগুলোই পাশে পড়ে রইল। পাশ কেটে এগিয়ে গেল ক্ষমতা দখলের রাজনীতি। আচমকা মৃত্যুর বিভীষিকা নিয়ে সারা বিশ্বে ঝাঁপিয়ে পড়ল কভিড বা করোনা। শাপেবর হলো স্বৈরাচারী শাসকদের। মিডিয়া বা প্রচার যন্ত্রগুলো জনগণের মনে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি করল যে, মানুষ ভুলে গেল গণতন্ত্র কী, স্বৈরাচার কী, দুর্নীতি কী, ন্যায়ের শাসন কী। জনকণ্ঠ রোধের অসংখ্য আইন হলো। যন্ত্রণায় মানুষ কঁকিয়ে উঠলেও তর্জন গর্জন এলো, ‘অ্যাই চুপ, করোনা আসছে।’ শাসকরা চায় মানুষ মরার মতো পড়ে থাকুক। ষোল আনাই সফল হয়েছে শাসক-শ্রেণি জনগণকে প্যারালাইসড করে নিরাপদে শাসন চালিয়ে যেতে।

ধর্মবিদ্বেষ, বর্ণবিদ্বেষ, জাতিবিদ্বেষ আজকের সময়ে বিশ্বরাজনীতির অঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সংখ্যালঘুর প্রশ্নই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক উপাদানের আসন গ্রহণ করেছে। ক্ষমতায় যাওয়া-আসা চলে এই একটি মাত্র পথে। পশ্চিমা-ধর্মী রাষ্ট্রগুলো দরিদ্র, আধা দরিদ্র দেশের জনগণকে এমনি তুকতাক কালা জাদু করেছে যে তারা মোহাচ্ছন্ন হয়ে ছুটছে নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, মেলবোর্ন। বাংলাদেশের একজন অভিবাসী কেবল ধর্মেই নয়, বর্ণে, ভাষায়, সংস্কৃতিতেও ওদেশে সংখ্যালঘু। সাদা বর্ণ আমেরিকানরা কী ধরনের আচরণ করে ওরা তা বুঝতেও চায় না। স্বেচ্ছা-অভিবাসী এই ক্রীতদাসদের প্রকৃত অর্থে ঘাড়ের ওপর মস্তক বলে অংশটি নেই। এমন দাসত্ব, এমন আনুগত্য প্রদর্শন মনুষ্যত্বেরই অসম্মান।

জটিল প্রশ্নটি হচ্ছে দাঙ্গা, ধর্ষণ, নরহত্যা এবং যুদ্ধের ভেতর দিয়ে স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে যারা ইউরোপ, আমেরিকায় পালায় বা পালাতে চায়, তাদের সম্পর্কে কোন বিবেচনাটা আসে? প্রাণরক্ষা কি মানুষের আদিম প্রবৃত্তি? অবশ্যই। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আশ্রয় খোঁজাও অন্যতম প্রবণতা। আক্ষেপ এটাই যে, যে ইউরোপ-আমেরিকা এশিয়া-আফ্রিকাকে উপনিবেশের চারণভূমি হিসেবে পরিণত করে তাদের কাছেই জীবন ভিক্ষা? এ যেন এক উন্মাদ কাণ্ডজ্ঞানহারা মানুষের অন্ধ ছুটে চলা। নৌকা করে গভীর অতলান্তিক মহাসমুদ্র অতিক্রম করে অচেনা আশ্রয়ভূমির সন্ধানে নামা। গভীর সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া কিংবা ডুবে মরাই হয় নিয়তি। জনসংখ্যা ভারে আনত ক্ষুদ্র ভূখণ্ড বাংলাদেশে কেন পাহাড়-সমুদ্র অতিক্রম করে ইয়াঙ্গুনের রোহিঙ্গারা লাখো লাখো সংখ্যায় আশ্রয় নিল? কক্সবাজার উপকূলে পলাতকরা নৌ-ডুবিতে মরল কেন? কেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা ভারতের দিল্লি আর জম্মুতে আশ্রয় শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে? রাষ্ট্রহীন, নাগরিকত্বহীন মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ কী? আমেরিকা তার সৎভাই তালেবানদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে কেটে পড়লে কী হাল হলো আফগানিস্তানের? আফগানরা সীমান্ত অতিক্রম করেছে উজবেকিস্তান আর তাজিকিস্তানে। এমনিতে পাকিস্তান সীমান্তে আশ্রয় শিবিরে দশ লাখের অধিক আফগান শরণার্থী পড়ে আছে এক যুগ ধরে। জন্ম আর মৃত্যুর অট্টহাসি শোনা যায় দুর্গম পাথুরে পাহাড়-পর্বতের গোলক ধাঁধায়। আমরা কি ভুলতে পারি সমাজতন্ত্রের পতনের পর যুগোশ্লাভিয়ার খণ্ডিত অংশ সার্বিয়া-বসনিয়া-হারজেগোভিনায় মুসলিম সংখ্যালঘুর ইতিহাস? সার্বিয়ানরা হাজার হাজার সংখ্যালঘু মুসলমানকে হত্যা করেছে, গর্ভবতী করেছে নারীকে। বিশ্বমানব কি ভুলতে পারে সার্বীয় কিশোরী-গর্ভবতীর পলায়নের দৃশ্যের ছবি?

ইসলাম এবং খিলাফতের স্মৃতিবিজড়িত সিরিয়ার পবিত্র নগরী দামেস্ককে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিনি মদদপুষ্ট আইএস বা ইসলামিক স্টেটস জঙ্গি বাহিনী। বন্দি করে অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য নারীকে। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। ইরাকের ভাগ্যেও তা-ই ঘটেছে। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তানে খ্রিস্টান, ইহুদি তো বটেই, শিয়া, ইয়াজেদি হত্যা, নির্যাতন এবং বিতাড়নের শিকার হয়। প্রাণরক্ষার জন্য এসব মানুষ ছুটছে অজানার সন্ধানে। ইউরোপে আশ্রয় নিতে গিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অপরাধে বন্দি হয়ে জেলে ঢুকছে কিংবা জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ফেলে যাওয়া দেশে। পুনরায় পড়ছে হিংস্র বিতাড়ক বাহিনীর হাতে। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর সংখ্যালঘু মুসলমানদের তো বিদ্রোহের অপরাধে চীনা রেড আর্মিরা অর্ধেককে মেরেই ফেলেছে। জোর করে তুলে নিয়ে হাজার মাইল দূরের দুর্গম প্রদেশে অভিবাসিত করছে। ভারত কাশ্মীরের জনগণকে তো বলতে গেলে জেলখানার কয়েদি বানিয়ে দিয়েছে। সমস্ত মানবিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।

ধর্মীয়, জাতিগত, বর্ণগত হিংসা, বিশ্বমানবের এই হচ্ছে বাস্তব সত্য। কেননা এই বিশ্বমানব সংখ্যালঘু। পূর্ববঙ্গে দেশভাগের সময় সংখ্যালঘুরা ছিল ৪০ শতাংশে, বর্তমান দুই হাজার একুশ সালে প্রজাতি বিলুপ্তির সূত্র ধরে দাঁড়িয়েছে মাত্র আট শতাংশে। মধ্যের সংখ্যাটা অভিবাসী হয়েছে ভারত এবং ইউরোপ-আমেরিকায়। কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায়। প্রাচীন এবং মধ্যযুগের বৌদ্ধধর্ম ভারতবর্ষের মাটি থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সম্রাট হর্ষবর্ধনের হাতে কত সংখ্যক বৌদ্ধ নিহত হয়েছে এবং বৌদ্ধ ধর্ম মন্দির ধ্বংস হয়েছে তার হিসাব প্রায় অসম্ভব। নগর সভ্যতা থেকে প্রান্তবাসী বলে দলিত অর্থাৎ নিম্নবর্গ হিন্দুরা উচ্চবর্ণের হিন্দুদের হাত থেকে রক্ষা পেলেও বর্তমান সময়ে তারা অশেষ নির্যাতনের শিকার। প্রতিদিন দলিত নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে, খুন হচ্ছে। প্রশাসন অন্ধ। বুঝা যায় ধর্মগত সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণগত সাম্প্রদায়িকতার চেয়ে নিষ্ঠুর কম নয়। দলিত হিন্দুদের পালাবার স্থান নেই। ধর্মান্তরিত হলেও। বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর অর্থাৎ ভি.আর. আম্বেদকরের মতো মানুষও বর্ণবাদের হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য হিন্দুধর্ম পরিত্যাগ করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। অথচ আজীবন তাকে নিচুজাতের তকমা নিয়ে পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়। কেন এমনটা হলো? কেননা ভারতে ধর্মবাদ আর বর্ণবাদ সমার্থক।

ভারতবর্ষের ইতিহাসের পাতা অসংখ্য আন্দোলনে আকীর্ণ, কিন্তু বর্ণবাদ-বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের প্রমাণ মেলে না। এমনকি আধুনিক যুগে মহাত্মা গান্ধীও তা করেননি। আক্ষেপ এই, বাম-কমিউনিস্ট আর গণতন্ত্রীরাও তা পাশ কাটিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের বেলায়ও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রগতির পক্ষে, সমাজতন্ত্রের পক্ষে, জাতীয়তাবাদের পক্ষে অসংখ্য আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনকে। শিক্ষিত সমাজ তথা বুদ্ধিজীবী মহলেও এর গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়নি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে, সভা-সমাবেশ হয়েছে, এটা সত্য। স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু করেনি সামাজিক আর সাংস্কৃতিক আন্দোলন। হয়নি মননশীল আর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভারে চাপা পড়ে রইল সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন। তাই স্বাধীনতার পরপরই মাটির তলায় ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িকতা কন্দমূলের মতো নতুন অঙ্কুর মাথা তুলে জেগে উঠল। অথচ রাষ্ট্রবিজ্ঞান আমাদের জানায় ভোটের রাজনীতিটা হচ্ছে গণতন্ত্রের বাইরের খোলস, ঠিক পেঁয়াজের মতো, ভেতরের শাঁসটা হচ্ছে সামাজিক সাম্য।

এখন প্রশ্ন হলো সাম্প্রদায়িকতার শিকার জন্মভূমি বিচ্ছিন্ন মানুষ যাবে কোথায়? কোথায়ই বা যায়? এই সাম্প্রদায়িকতা, এই উদ্বাস্তুকরণ, উদ্বাস্তুযাত্রা আর তার পরিণাম নিয়ে ইতিহাস আজও নিশ্চুপ। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সত্যকে চাপা দেওয়া হয়েছে। সেই দেশভাগ। লাখো-কোটি পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুকে নেহরু সরকার মানবিকভাবে দেখেনি। তারা তথাকথিত আর্যরক্তবাহী পশ্চিমবঙ্গে স্থান দিতে চায়নি অনার্যরক্তবাহী পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুদের। তাদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের দায় নেয়নি পশ্চিমবঙ্গ। একদিকে উদ্বাস্তুদের বেশির ভাগই ছিল নিম্নবর্ণ হিন্দু এবং বাঙালি সতো বটেই। বাঙালি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ভাষাগত ক্ষমতার রাজনীতিটা উল্টে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গে, তাই তাদের ঠেলে দেওয়া হয় আন্দামানে এবং দণ্ডকারণ্যে। টাটা শিল্পগোষ্ঠী বিহারের জামশেদপুর এবং বর্ধমানের আসানশোল শিল্প তালুক গড়ে সস্তা শ্রমের জন্য উদ্বাস্তুদের একটি অংশের জন্য শ্রমিক বস্তি গড়ে (উপনিবেশ) দেয়। পাঞ্জাবের শিখরা জামাই আদর পায়, বাঙালিরা পড়ে মরে রেল স্টেশনে। নেহরু থেকে ইন্দিরা গান্ধী এবং বর্তমান সরকার এমন সব আইন করে যার ফলে পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের উদ্বাস্তুরা রাষ্ট্রহীন হয়ে যায়। এমন জটিল আইনকে ডিঙিয়ে আজকের উদ্বাস্তুরা কিছুতেই ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে না। আজকের বিজেপি সরকারের যে জটিল নাগরিক আইন তার জন্মদাতা গান্ধী-নেহরুর কংগ্রেস। বাঙালি প্রতিরোধের বেলায় হিন্দি বলয়ের ‘যাহা বিজেপি তাহা কংগ্রেস’। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে যা-ই ঘটুক বাংলাদেশের সংখ্যালঘুকে তার জন্মমাটি আঁকড়ে থাকতে হবে। বাম রাজনীতির সঙ্গে তাদের যুক্ত হতে হবে। বামপন্থিরাই প্রকৃতপক্ষে তাদের সহমর্মী এবং মিত্র। তারাই দিতে পারে তাদের নিরাপত্তা। অন্ধ-রাজভক্তিতে মিলবে শূন্য। শাসক দলের আনুগত্য মনুষ্যত্বের অসম্মান মাত্র।

লেখক: কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত