হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আনন্দ উদযাপনের মধ্যে আরেকটি সুখবর দিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র আগামী বুধবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেই মাঠে ফিরছেন! ‘নেইমার রবিবার এককভাবে অনুশীলন শুরু করবে। সোমবার থেকে সে পুরো দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবে। স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য ও পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে’ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন আনচেলত্তি। তবে তিনি নেইমারকে খেলানোর ঘোষণা দিলেও, হাইতি ম্যাচে দলের বাকি ফরোয়ার্ডদের পারফরম্যান্সের কারণে ১০ নম্বর জার্সিধারীকে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে তীব্র লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। এক অর্থে, নেইমারকে এখন শুরুর একাদশের ‘লাইনের শেষ’ থেকে লড়াই শুরু করতে হবে।
কোচ আনচেলত্তি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন, নেইমারকে তিনি উইংয়ে নয়, বরং মাঠের মাঝখানে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলাতে চান। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ঠিক এই পজিশনটিতেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খেলিয়ে একটি সফল পরীক্ষা চালান ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড। মাঝমাঠে ভিনিসিয়ুসকে ভেতরে খেলানোর এই নতুন ডাইনামিকস দারুণ সফল হয়েছে। ভিনি নিজেও গোল করেছেন এবং কুনহাকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। এই মুহূর্তে যে ফর্মে ভিনিসিয়ুস আছেন, তাকে একাদশ থেকে সরানোর কথা চিন্তাও করতে পারবেন না কোচ। আর নেইমারকে আনচেলত্তি উইঙ্গার হিসেবে খেলাবেন না, ফলে ভিনির বর্তমান পজিশনে নেইমারের সরাসরি ঢোকার সুযোগ কিছুটা জটিল।
নেইমারের শুরুর একাদশে ঢোকার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা হতে পারে মাথেউস কুনহার ফর্ম। প্রথম ম্যাচে ইগর থিয়াগোর খারাপ পারফরম্যান্সের পর কুনহা সুযোগ পেয়েই হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন। শুধু গোল করাই নয়, কুনিয়া নিচে নেমে এসে মিডফিল্ডারের ভূমিকাও পালন করেছেন এবং প্রতিপক্ষের জায়গা বন্ধ করতে দারুণ ট্র্যাক-ব্যাক করেছেন। ফলে স্ট্রাইকার পজিশনেও কুনহাকে বসানো কঠিন।
অন্য বিকল্প হতে পারে লুকাস পাকেতার জায়গায় নেইমারকে মাঝমাঠের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলানো। কিন্তু হাইতি ম্যাচে বাম প্রান্তে পাকেতাও ছন্দে ফিরেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এক মাস চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা নেইমারের বর্তমান শারীরিক যে অবস্থা, তাতে পাকেতার মতো নিচে নেমে রক্ষণ আগলানো বা কঠোর পরিশ্রম করা তার পক্ষে কঠিন হবে।
যদি আনচেলত্তি ৪-২-৩-১ বা চারজন ফরোয়ার্ড নিয়ে অল-আউট আক্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবেই কেবল নেইমারের একাদশে শুরুতে ঢোকার পথ খুলতে পারে। সেক্ষেত্রে ভিনিসিয়ুস চলে যাবেন তার চেনা বাম প্রান্তে, আর নেইমার খেলবেন আক্রমণের মূল নেতৃত্বে (ফলস নাইন)। ডান প্রান্তে রাফিনহা ইনজুরির কারণে স্কটল্যান্ড ম্যাচে অনিশ্চিত হওয়ায় সেখানে লুইজ হেনরিক, রায়ান বা এনদ্রিকের মধ্যে কেউ একজন খেলবেন।
নিশ্চিতভাবেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমার খেলবেন, তবে তা হয়তো শুরুর একাদশে নয়; বরং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। আনচেলত্তির আসল পরিকল্পনা হলো, ‘আমরা এখনই নকআউট পর্ব নিয়ে ভাবছি না। আমাদের লক্ষ্য স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আরও ভালো ফুটবল খেলা, ম্যাচটি জেতা এবং সম্ভব হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়া। স্কটল্যান্ডের নিজস্ব কিছু শক্তি আছে, তারা আজ মরক্কোর বিরুদ্ধেও সমস্যা তৈরি করেছে। আমাদের শান্ত থেকে নিজেদের উন্নতির জন্য কাজ করে যেতে হবে।’
স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে নেইমারকে মাঠে ফিরিয়ে ম্যাচের গতি ও ফিটনেসের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া, যাতে নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে নেইমারকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে শতভাগ ব্যবহার করা যায়।