ছাগল বাঁচাতে কূপে নেমে মৃত্যু বাবা-ছেলেসহ চারজনের

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০২:১১ এএম

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পরিত্যক্ত কূপে পড়া একটি ছাগল বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বাবা-ছেলেসহ চার আদিবাসী গারো সদস্যের। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের বন এলাকার জলই গ্রামে এ ঘটনা গারো পল্লীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন জলই গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪৮) ও তার ছেলে নেইমার ম্রং (১৪) এবং তাদের স্বজন ও প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭) ও গাবরিয়েল নকরেক (৩২)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত মাটির সেফটি ট্যাংকে (মাটির কূপ) বাবুলের একটি ছাগল পড়ে যায়। ছাগলটি বাঁচাতে প্রথমে নেইমার ম্রং কূপের ভেতরে প্রবেশ করে। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাবুল হাদিমা নামেন কূপে। তিনিও আর উঠে আসেননি। এভাবে একে একে আরও দুজন কূপে নামেন। এক পর্যায়ে চারজনেরই কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস কূপ থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসমত আলী জানান, কূপ থেকে ছাগলটি উদ্ধারে বাবুল হাদিমা প্রথমে তার ছেলে নেইমার ম্রংকে কূপে নামান। তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরে বাবুল নিজে কূপে নামেন। এরপর তাদের উদ্ধার করতে বাবুলের শ্যালক রতন নকরেক এবং পরে তার ভগ্নিপতি গাবরিয়েল নকরেক কূপে নামেন।

স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ কূপটি পরিত্যক্ত থাকায় ভেতরে গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ভেতরে দম বন্ধ হয়ে তারা মারা যেতে পারেন। জলই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে মৃতদেহগুলো সারিবদ্ধ রাখা আছে। বাড়ির চারপাশে মানুষের কান্নার রোল। শোকে স্তব্ধ। এসেছে আত্মীয়স্বজনসহ প্রতিবেশী। পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ।

ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন মধুপুর ইউএনও জুবায়ের হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, ওসি এ কে এম ফজলুল হক, নৃতাত্ত্বিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. জনযেত্রাসহ অন্য নেতারা।

অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ রুবেল জানান, পরিত্যক্ত একটি কূপে ছাগল পড়ে গেলে সেটি উদ্ধার করতে নেমে একে একে চারজন নাইট্রোজেন গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে ভেতরে মারা যায়। ফায়ার সার্ভিস এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো সৎকারের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত