এবার তাহলে কোন পথ

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৩, ০২:০৭ এএম

বিগত দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপ হয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে সংঘাতপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজতে জাতিসংঘও এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে সেই সংলাপ। ফলে নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটসহ সরকারবিরোধী প্রায় সব দল। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও বিরোধীপক্ষ আন্দোলন করে সফল হয়নি। কিন্তু সংলাপ সফল হয়েছিল। নির্বাচনেও এসেছিল সব দল। এবারও বিএনপি ও সমমনা দলগুলো সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে এক দফা ঘোষণা করেছে। সংলাপ করার বিষয়টিও আবার আলোচনায় এসেছে। এরই প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসন হবে কি না, সরকারবিরোধীরা নির্বাচনে যাবে কি না, সে প্রশ্নই এখন রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

সরকারবিরোধীদের এক দফার জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধান মেনে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পক্ষে অনড় থেকে এক দফা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবে না, এমনকি সংলাপেও রাজি নয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অচলাবস্থা নিরসনে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে। আর সমঝোতা হলে সংবিধানের মধ্যে থেকেও সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হতে পারে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তৎপর। যুক্তরাষ্ট্র সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছে। দলটির নেতৃত্ব দেওয়া সে দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেকেন্ডারি উজরা জেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক করেছেন নাগরিক সমাজের সঙ্গেও। পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে তিনি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ ব্যাপারে তার দেশ বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর ভূমিকা দেখতে চায় বলেও জানান। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দলগুলোর মধ্যে সংলাপকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে সে কথাও বলেছেন তিনি। তবে তারা চান বাংলাদেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নিক।

দেশে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান ও বিদেশি তৎপরতা দুইয়ে মিলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিশ^াস জন্মেছে যে, আগের দুইবারের মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবার করতে পারবে না ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিরোধীদের আন্দোলন সরকারকে বিচলিত না করতে পারলেও বিদেশি চাপ আওয়ামী লীগকে আগের যেকোনো বারের চেয়ে কাবু করে ফেলেছে। বিএনপিও এবারের আন্দোলনে সুফল মিলবে এমন আশায় বলীয়ান।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকম-লীর দুই নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আন্দোলন, সংগ্রাম ও বিদেশি চাপ মোকাবিলা করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন শেষে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট মেয়াদ পার করলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে সবার ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে এবার কী? সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে বিদেশি শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সংলাপে বসার চাপও আছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের চার নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংলাপে বসা যেতে পারে। সমাধান কী আসবে তা ভাবলে সংলাপ সফল হবে না। শর্ত থাকলেও সফল হবে না। দুই দলের দুই অবস্থান থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাঝামাঝি একটা পথ নিশ্চয়ই বের হবে।

অবসর প্রস্তুতিতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আগের দুটির মতো দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে, সেটাও আমার মনে হয় না। সংবিধানসম্মতভাবেই নির্বাচন হতে পারে। সে জন্য আলোচনায় আসতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘আগের দুইবারের নাটক ২০২৩ সালেও হবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আগামী নির্বাচন কেউ বানচাল করতে পারবে বা করবে, আবার কৌশলে কাউকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পারবে বা রাখবে, সেটাও হবে না। আমি মনে করি সেটা বোঝার ক্ষমতা রাজনীতিবিদদের আছে। সরকারি দল ও বিরোধীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলেও কিছু একটা হবে। আমি মনে করি, বাস্তব বুদ্ধির জয় হবে।’

২০০১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। বিনা আন্দোলন ও রক্তপাত ছাড়া ক্ষমতার পালাবদলের এমন নজির বাংলাদেশে আর নেই। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখার জোর চেষ্টা করার দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে আওয়ামী লীগ। গত দুটি জাতীয় নির্বাচন তারই নজির।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট। ক্ষমতায় এসে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলে আদালতের শরণাপন্ন হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে উচ্চ আদালত। যদিও আদালত পরবর্তী দুই নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে বাধা নেই বলেও মত দেয়। এই পদক্ষেপকে ক্ষমতা ধরে রাখার চক্রান্ত দাবি করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

২০১২ সালে শুরু হওয়া আন্দোলন জোরালো হয় ২০১৩ সালে। তখন নির্বাচনকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বিএনপিকে দেওয়ার প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে সংকট সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন তিনি। তার কোনো প্রস্তাবেই রাজি হননি খালেদা জিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সরকারি দল বারবার আহ্বান জানিয়েছে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আদালত কর্তৃক বাতিল করা নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক করার জন্য বলা হয়। তাও আমলে না নিয়ে রাজপথে দাবি আদায়ের দিকে ঝুঁকে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। 

এ অবস্থায় সংকট সমাধানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো বাংলাদেশ সফরে আসেন। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলকে এক টেবিলে বসান। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দু-দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দিকে জোর দেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তাই বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। জানা যায়, প্রয়োজনে ছয় মাস পরে আরেকটি নির্বাচন হবে বলেও প্রস্তাব করা হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘের বিশেষ দূত সংকট সমাধানে বিএনপির অসহযোগিতা দেখে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত দিয়ে চলে যান।

এদিকে নির্বাচনের আগে বেঁকে বসে জাতীয় পার্টি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচনে যাবেন না বলে ঘোষণা দেন। তড়িঘড়ি করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ভারতের তখনকার পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ওই সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে নিষ্ক্রিয় করে তার স্ত্রী রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির চালকের আসনে বসানো হয়। বিএনপির বর্জন ও প্রতিহত করার ঘোষণার মধ্যেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করে বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্কোন্নয়নের দিকে নজর দেয় শেখ হাসিনার সরকার।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আসছিল। কিন্তু আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিএনপি। দলটির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের পাশাপাশি মধ্যপন্থী কিছু দলও একই দাবিতে মাঠে নামে। গণফোরামের ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু দাবি আদায়ে সফল হয়নি বিরোধীরা। একপর্যায়ে ড. কামাল হোসেনের মধ্যস্থতায় সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসে দলগুলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিরোধীরা। কিন্তু নির্বাচনের পর ‘ভোট ডাকাতি’র অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচন দাবি কওে তারা। ওই নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৬টি আসনে জয়লাভ করে দলটি। ফখরুল ছাড়া অন্যরা শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেন। তারপর আওয়ামী লীগের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

গত বছরের আগস্ট থেকে বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে। হামলা-বাধা সত্ত্বেও দলটি নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি বাম ও মধ্যপন্থী দলগুলোকে আন্দোলনের সঙ্গী করতে সক্ষম হয়।

১২ জুলাই ঢাকা সফরে আসে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এর আগে প্রাক-নির্বাচন তথ্যানুসন্ধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দল ঢাকায় আসে। এ দুটি প্রতিনিধিদল সফরে থাকা অবস্থায় ১৩ জুলাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশ করে এক দফার ঘোষণা দেয়।

এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, দুই দলকে মাঝামাঝি অবস্থানে নিয়ে আসারও সুযোগ রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সে পথেই এগোতে হবে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগকে এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে। তারা বলেন, সমাধান চাইলে এবং বড় দলগুলো ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোলে সংবিধানসম্মত পথও নিশ্চয়ই বেরোবে।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সাংবিধানিক পরিবর্তন চাইলে লাখ লাখ লোকের দাবি উঠতে হবে। শুধু দাবি করলেই হবে না, রাস্তায়ও নামতে হবে, নামাতে হবে। বিরোধী দলের এক দফা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিকে জনগণ ন্যায্য মনে করলে একটা ফল আমরা দেখতে পাব।’ একইভাবে সরকারি দলও যা-ই বলুক, জনগণ পক্ষে থাকলে সেটা বাস্তবায়ন তারা করতে পারবে; অর্থাৎ এক দফাই শেষ কথা নয়, যোগ করেন তিনি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হলে সংবিধানসম্মতভাবেই উপায় বের করা সম্ভব। দুই দল এক দফা দিলেও সবকিছু শেষ হয়ে গেল, এমনটি বলা যাবে না। মাঝামাঝি পথও বেরোতে পারে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘দুই দলই এক দফা দিয়েছে। একটা সময়ে এই দুই দলের এক দফা ঘোষণার মাঝামাঝি তো অন্য পথও তৈরি হয়ে যেতে পারে। আমি বলব, এখনো সম্ভাবনা আছে। বড় দুই দলের পৃথক এক দফা দুই দলেরই রাজনৈতিক কৌশল। এর ভেতরেই মাঝামাঝি থাকার বা আসার সুযোগ রয়ে গেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত