ইউক্রেনে কতদূর যেতে পারে রাশিয়া?

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৫৮ পিএম

গত কয়েকমাস ধরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনার যে অভিযোগ উঠেছিল, তা তিনি নাকচ করে এসেছেন।

কিন্তু এখন তিনি একটি শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করে দিয়ে ইউক্রেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দুইটি এলাকায় সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যাকে তিনি বলছেন, শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত সৈন্য।

গত কয়েকমাসে ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে দেড় লাখের বেশি সৈন্য মোতায়েন করেছে রাশিয়া। ফলে অনেকের আশঙ্কা, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের এটা প্রথম ধাপ।

 

বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকাগুলোর স্বীকৃতি দিলে সমস্যা কোথায়?

এখন পর্যন্ত তথাকথিত দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক প্রজাতন্ত্র প্রকারান্তরে রাশিয়াই পরিচালনা করছে। এই দুইটি অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে মি. পুতিনের স্বীকৃতির ফলে রাশিয়া এখন সেখানে সরাসরি সৈন্য পাঠাতে পারবে। তারা সেখানে সামরিক ঘাটিও তৈরি করতে পারবে।

যে এলাকায় প্রতিদিনই অসংখ্যবার যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে রাশিয়ার সেনাদের অবস্থান বড় আকারের যুদ্ধের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

তবে সবচেয়ে আশঙ্কার কথা হলো, বিদ্রোহীরা শুধুমাত্র যেটুকু এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছে, শুধু সেটাই দাবি করছে না, তারা পুরো দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করছে।

পূর্ব ইউক্রেনে দেশটির সরকার ‘গণহত্যা’ করেছে, এমন মিথ্যা দাবি তুলে রাশিয়া এর মধ্যেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ওই এলাকায় দেশটি ৭ লক্ষের বেশি পাসপোর্ট বিতরণ করেছে। সুতরাং তারা সেখানে কোন অভিযান শুরু করলে দাবি করতে পারবে যে, নিজেদের নাগরিকদের রক্ষায় তারা অভিযান করছে।

 

রাশিয়া কতদূর যেতে পারে?

ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো শুধুমাত্র পূর্ব ইউক্রেনের শান্তি চুক্তি ভেঙ্গে দিয়ে সেখানেই থেমে যেতে পারেন। তারা দাবি করেছে, ইউক্রেনে রাশিয়া কোন হামলা করছে না।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, রাশিয়া আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, তারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ লক্ষ্য করে এগোচ্ছে, যেখানে দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষ বসবাস করে’।

এই সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও বেশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের পূর্ব, উত্তর আর দক্ষিণ দিক থেকে হামলা করে ইউক্রেনের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করতে পারে রাশিয়া।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ফলে রাশিয়াকেও চরম বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত