ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কে?

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২২, ০১:২৪ পিএম

পদে বসার মাত্র দেড় মাসের মাথায় পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। তার পর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। উঠে আসছে একাধিক নাম। তবে এ ক্ষেত্রে দৌড়ে প্রথমেই রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ঋষি সুনাক। এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকতে পারেন পেনি মর্ডান্ট।

লিজ ট্রাসের স্থানে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নেতৃত্ব নির্বাচনের এই প্রতিযোগিতা আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার আগপর্যন্ত দায়িত্বপালন করবেন ট্রাস।

নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কোনো প্রার্থীর সহকর্মী টোরি এমপিদের থেকে কমপক্ষে ১০০ জনের মনোনয়নের বা সমর্থনের প্রয়োজন হবে। সেই হিসাবে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন এই দলের মধ্যে নতুন নেতা হওয়ার দৌড়ে তিনজনের বেশি দাঁড়াতে পারবেন না।

কারণ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৩৫৭ জন টোরি এমপি রয়েছে। তবে বাস্তবিকভাবে মাত্র দু’জনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; এমনকি সেটি একজনও হতে পারে। আর সেরকম হলে একক সেই প্রার্থী দলীয় সদস্যদের ভোট ছাড়াই নেতা হয়ে উঠবেন।

অবশ্য লিজ ট্রাস পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পাটির পরবর্তী নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় কে নামবেন তা এখন পর্যন্ত কেউ-ই নিশ্চিত করেনি।

বরিস জনসনের পদত্যাগের পর ঋষি সুনাক কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় প্রার্থী হয়েছিলেন এবং কনজারভেটিভ এমপিদের সর্বাধিক সমর্থন পেয়ে লিজ ট্রাসের পাশাপাশি চূড়ান্ত দু’জন প্রার্থীর একজন হিসাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

নেতৃত্ব বাছাইয়ের সেই প্রচারণার সময় সুনাক সতর্ক করেছিলেন যে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী লিজ ট্রাসের ট্যাক্স পরিকল্পনা অর্থনীতির ক্ষতি করবে। কিন্তু তার সেই বার্তা পার্টির সদস্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে ব্যর্থ হয় এবং তিনি ২১ হাজার ভোটে হেরে যান।

ঋষি সুনাক রিচমন্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ার নির্বাচনী এলাকা থেকে ২০১৫ সালে কেবল এমপি হয়েছিলেন। আর তাই ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে খুব কম লোকই তার কথা শুনেছিল, কিন্তু তিনি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্রিটিশ রাজকোষের চ্যান্সেলর অর্থাৎ অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

তবে তার স্ত্রীর ট্যাক্স বিষয়ক বিতর্কের কারণে সুনাকের সুনাম নষ্ট হয় এবং তার কিছুদিন পরেই লকডাউনে নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য জরিমানার মুখোমুখি হন তিনি। কনজারভেটিভ এমপি অ্যাঞ্জেলা রিচার্ডসন ইতোমধ্যেই সুনাকের প্রতি তার সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে ঋষি সুনকের পরেই উঠে আসছে কনজার্ভেটিভ পার্টির নেত্রী পেনি মর্ডন্টের নাম। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের চতুর্থ এবং পঞ্চম রাউন্ডে সাংসদদের ভোট অনুযায়ী সুনাকের পরেই ছিলেন তিনি। দলেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বরিসের পদত্যাগের পর নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতায়ও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং নিজের সহকর্মী এমপিদের কাছ থেকে জোরালো সমর্থনও অর্জন করেছিলেন।

কিন্তু শেষের দিকে সমর্থনের অভাবে সেসময় চূড়ান্ত দুজন প্রার্থীর একজনে পরিণত হতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে লিজ ট্রাসকে সমর্থন করার পর তিনি হাউস অব কমন্সের নেত্রী এবং প্রিভি কাউন্সিলের লর্ড প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। এর ফলে তিনি নতুন রাজার অ্যাকসেসন কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করেন।

২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন পেনি মর্ডান্ট।

লিজ ট্রাস পদত্যাগ করার পর চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রার্থী হিসেবে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন শামিল হবেন বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও জনসন এখন পর্যন্ত নিজে থেকে এ সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে তার ঘনিষ্টজনরা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী ও এমপিদের গণবিদ্রোহের পর গত জুলাই মাসে বরিস জনসন পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। ডাউনিং স্ট্রিটে করোনা মহামারির লকডাউনের মধ্যে পার্টি এবং অন্যান্য বিতর্ক নিয়ে কয়েক মাসের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বরিস।

তবে, পার্লামেন্ট এবং সাধারণভাবে দলের সদস্যপদ উভয় ক্ষেত্রেই বরিস জনসনের এখনও মিত্র রয়েছে। বরিসের দীর্ঘদিনের সমর্থক নাদিন ডরিস যুক্তি দিয়েছেন, তার (বরিস জনসন) ফিরে আসা উচিত, কারণ ২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্রিটিশ জনগণের কাছ থেকে দেশ শাসনের ম্যান্ডেট পেয়েছেন তিনি।

এছাড়া আরও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের জুনিয়র মন্ত্রী কেমি ব্যাডেনোচ এবং বুধবার পদত্যাগ করা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্র্যাভারম্যান।

 প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেসকে ব্রিটিশ এমপিরা ব্যাপকভাবে নিরাপদ নেতৃত্ব বলেই মনে করে থাকেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে বেন ওয়ালেস ক্রমবর্ধমান ভাবে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। কারণ তার অধীনেই যুক্তরাজ্য কিয়েভকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি বরিস জনসনের সমর্থক ছিলেন এরপর লিজ ট্রাসকেও সমর্থন করেন।

বরিস জনসনের পদত্যাগের পর ট্রাস ও সুনাকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রার্থী ছিলেন কেমি ব্যাডেনোচ। সেই প্রতিযোগিতায় যদিও তিনি জিততে পারেননি তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তার প্রোফাইলকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্র্যাভারম্যান গত বুধবার লিজ ট্রাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন লিজ ট্রাস। বরিসের পদত্যাগের পরও তিনি নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাঁড়িয়েছিলেন কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটেই বাদ পড়েন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত