নভেল করোনাভাইরাসের বিরল একটি উপসর্গের কথা জানিয়েছেন একজন মার্কিন চিকিৎসক। তার দাবি, কভিড-১৯’এ আক্রান্ত হওয়ার পর অল্প কিছু রোগীর চোখে প্রদাহ হচ্ছে।
ইয়েল মেডিসিনের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ভিসেন্ট ডিয়াজ স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘হেলথ’কে বলেন, ‘চোখ একটানা লাল থাকা কারো কারো ক্ষেত্রে কভিড-১৯ এর প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।’
চোখের সাদা অংশটুকু একটা পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। এর নাম কনজাংটিভা। এই কনজাংটিভায় যখন সংক্রমণ বা প্রদাহ হয়, তখন এর সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো লালচে হয়ে ওঠে এবং পুরো চোখের সাদাটুকুই তখন লাল কিংবা গোলাপি হয়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই কনজাংটিভাইটিসের কারণ ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস। একেই সাধারণ মানুষ চোখ ওঠা বলে থাকেন।
অনেক সময় অ্যালার্জি, ঠান্ডা সর্দি বা চোখ কোনো রাসায়নিক ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে এলেও কনজাংটিভায় প্রদাহ হয় ও চোখ লাল দেখায়।
ভাইরাসজনিত চোখ ওঠায় পাতলা বর্ণহীন পানি পড়ে বেশি। তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত হলে নিঃসরণটি ঘন ও একটু হলদেটে হয়ে থাকে।
ডিয়াজ বলছেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি অল্প কিছু লোকের কনজাংটিভায় কভিড-১৯ প্রদাহ সৃষ্টি করছে। চোখে সমস্যা দেখা দেয়ার পাশাপাশি করোনার আর কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।’
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) থেকেও চোখের এই প্রদাহ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ থেকে মুক্ত থাকতে নিয়মিত হাত ধোয়ার পাশাপাশি বালিশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
নভেল করোনাভাইরাসের সঙ্গে চোখের প্রদাহের যোগসূত্র নিয়ে এর আগে সবাইকে সতর্ক করেন ওয়াশিংটনের লাইফ কেয়ার সেন্টারের নার্স চেলসি আর্নেস্ট। তিনি জানান, চোখ লাল হওয়া ‘সবচেয়ে একক গুরুত্বপূর্ণ’ লক্ষণ।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে তিনি বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করেন, ‘অ্যালার্জি থাকলে চোখ যেমন লাল হয়, এটি তেমনই। বাইরে লাল ছায়ার মতো সৃষ্টি হয়।’
আমেরিকার চক্ষুবিজ্ঞান একাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে প্রদাহের ফলে এক থেকে তিন শতাংশ মানুষের চোখ গোলাপি হয়।’
সোনাল তুলি নামের আরেক মার্কিন চিকিৎসক এ বিষয়ে বলেন, ‘নভেল করোনাভাইরাসের নতুন কিছু উপসর্গ নিয়ে আমরা গবেষণা করছি। প্রাথমিকভাবে চোখ দেখেই এটি শনাক্ত করা যাবে বলে আমাদের ধারণা। ভাইরাসটি আক্রমণ করলে ব্যক্তি ভেদে চোখে নানা ধরনের প্রদাহ দেখা দিচ্ছে।’