টুর্নামেন্টের শুরুতে ধুঁকতে ধুঁকতে পথ চলা আর নকআউট পর্ব সামনে আসতেই নিজেদের আসল চেনা রূপে ফেরা—বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার এই ‘ধীরে চলো’ নীতি ফুটবলপ্রেমীদের বেশ পরিচিত। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই চেনা ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাল ক্রোয়াটরা। পেনসিলভেনিয়ার বৃষ্টিভেজা ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ঘানাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জলাতকো দালিচের দল। বাঁচা-মরার এই ম্যাচে আরও একবার বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্রোয়াটদের জয়ের নায়ক ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। তবে হারলেও টুর্নামেন্টের বর্ধিত নিয়মে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ২০১০ সালের পর প্রথমবার শেষ ৩২-এর টিকিট কেটেছে কার্লোস কুইরোজের ঘানাও।
ম্যাচের শুরু থেকেই জয়ের জন্য মরিয়া ক্রোয়েশিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের ১৭ মিনিটে নিকোলা ভ্লাসিচের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। তবে ৩০ মিনিটে ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পেতার সুচিচের ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া এক বুলেট গতির নিচু শটে লিড নেয় ক্রোয়াটরা। বিরতির পর নিজেদের গুটিয়ে না রেখে আক্রমণের ধার বাড়ায় ঘানা। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে এরনেস্ট নুয়ামার ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার ভলিতে গোল করে ঘানাকে সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার ডেরিক লুকাশেন।
ম্যাচ যখন ১-১ সমতায় এবং ড্র করলেও দুই দলেরই নকআউট নিশ্চিত, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন মদ্রিচ। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে তার নেওয়া এক নিখুঁত ও বাঁকানো কর্নার কিক থেকে দারুণ হেডে ক্রোয়েশিয়ার জয়সূচক গোলটি করেন ভ্লাসিচ। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে অ্যাসিস্ট করার অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েন ৪০ বছর বয়সী মদ্রিচ। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ঘানার আব্দুল ফাতাউর আক্রমণ নস্যাৎ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই ব্যালন ডি'অর জয়ী তারকা।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মদ্রিচের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচ জলাতকো দালিচ বলেন, “লুকা আজ সবার জন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। ও জানে এটাই ওর শেষ বিশ্বকাপ, তাই নিজের সেরাটা দিয়ে বিদায় নিতে চাইছে।” আগামী ৩ জুলাই টরন্টোতে শেষ ১৬-তে ওঠার হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে পানামাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ এল-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। সেখানে তাদের ম্যাচ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে।