নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তারের আগে সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন বাদল। সেখানে অভিযোগ করেন, পৌরসভাকে আব্দুল কাদের মির্জা বাঙ্কার বানিয়ে রেখেছেন।
বাদল বলেন, ‘পৌরসভা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধিন। এ পৌরসভাকে উনি (আবদুল কাদের মির্জা) বাঙ্কার বানিয়ে রেখেছেন।’
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি প্রশাসনকে বলব, আপনার এখন গিয়ে দেখেন পৌরসভায় তৃতীয় তলায় হোস্টেল করে রেখেছেন তিনি। অস্ত্রের গুদাম বানিয়ে রেখেছে। এখনো যদি প্রশাসন গিয়ে দেখেন, তাহলে দেখবেন শত শত ক্যাডার, বহিরাগত ক্যাডার। রোহিঙ্গা আছে, সেনবাগ, সোনাগাজীর ক্যাডাররা আছে। অজস্র অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত তারা। যে কোনো মুহূর্তে আরো প্রাণ ঝরে যেতে পারে।’
বাদল আরো বলেন, ‘দুটি প্রাণ গিয়েছে। বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির প্রাণ দিয়েছে। তারপরও ওনার রক্তের পিপাসা মেটেনি। এখন আবার আলাউদ্দিনকে হত্যা করেও রক্ত পিপাসা মেটেনি। উনি আরো রক্ত চায়, আরও লাশ চায়। এ জন্য আজকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পৌরসভার ভবনকে উনি একটা বাঙ্কারে পরিণত করেছে।’
‘আমি প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব, পৌরসভা থেকে যেন বাঙ্কার সরিয়ে ফেলা হয় এবং অস্ত্রধারীদের যেন গ্রেপ্তার করা হয়।’- বলেন বাদল।
ওবায়দুল কাদেরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত হই, সম্মানিত হই। ওনার চরিত্রকেও কীভাবে হনন করা হয়েছে আপনারা দেখেছেন। ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে আমরা কিছুই বলিনি। কাদের ভাইয়ের পক্ষে মিছিল করছি। শান্তিপূর্ণ মিছিলে ওনার পালিত সন্ত্রাসী চরফকিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে হামলা করা হলো। এ ঘটনায় পুলিশ দু’পক্ষকে দুদিকে সরিয়ে দিল। আমি আমার বাড়িতে ফিরে গেলাম। তিনি ১০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে আমার বাড়িতে হামলা করলেন। কার উসকানিতে তিনি এগুলো করেন?’
বাদল বলে যান, ‘মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ সভা দিলাম রূপালী চত্বরে, তিনিও পাল্টা কর্মসূচি দিলেন একই স্থানে। তাহলে প্রশ্ন উসকানি কে দিল? এরপর, ১৪৪ ধারা দিল প্রশাসন। আমরা পৌরসভার বাইরে সভা করেছি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আমরা রাজনীতি করি। তিনি ওই অফিসের সবকিছু নিয়ে গেলেন। টয়লেট ও ওযুখানাটা পর্যন্ত ভেঙে দিয়ে গেছেন। উসকানি কে দিচ্ছে আপনারা দেখুন।’
তার দাবি, ‘আমরা ঝামেলায় যাইনি। আমরা আরেকটা অফিস নিলাম। সে অফিসে আওয়ামী লীগ সভাপতি বসেছেন, বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। যিনি মুক্তিযুদ্ধকালে আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের সাহেবের সাথে ডেপুটি কমান্ডার (বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান) ছিলেন। তার ওপরও হাত ওঠালেন, তাহলে উসকানি কে দিল?’
‘আমরা এ হামলার প্রতিবাদে সভা করলাম, সেখানে আমার বক্তব্যের ২মিনিট ৯ সেকেন্ড সময়ে সেখানে হামলা হল। তাহলে উসকানি কে দিল? উনি প্রতিনিয়ত এ পৌরসভা ভবনকে একটা বাঙ্কারে পরিণত করেছেন। আমরা এটা থেকে মুক্তি চাই। কোম্পানীগঞ্জবাসী মুক্তি চায়। কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা মুক্তি চায়।’
বদলের কথা, ‘আমরা অস্ত্রের রাজনীতি করিনি। আমাদের যদি বহিরাগত সন্ত্রাসী থাকতো তাহলে আমার লোক কীভাবে মারা যায়? উনারতো একজন কর্মীও মারা যায়নি। উনি দেখাক বহিরাগত কে এসেছিল। আমরা সন্ত্রাসী লালন করি না। উনি অনেক সন্ত্রাসী লালন পালন করেছেন।’
‘এখনো অনেক পারবেন। আমাদের সেই অর্থ সামর্থ্য নেই। যদিও আমাদের পূর্ব পুরুষেরা অঢেল সম্পদের মালিক ছিলেন। উনি নিজেই বলেছেন, ছেঁড়া জামা নিয়ে কলেজে গিয়েছেন। ওনার ছেঁড়া জামা থেকে আমেরিকায় বাড়ি, ঢাকায় বাড়ি, কক্সবাজারে হোটেল, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ। ওনার এত টাকার উৎস কি?’
কোম্পানীগঞ্জের মানুষ শান্তি চায় উল্লেখ করে বাদল বলেন, ‘আমরা বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশের বাইরে একচুলও যাইনি, যাব না।’
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট বাজারে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মারা যান।
এরপর মঙ্গলবার উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে রাত ৯টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আলাউদ্দিন নামে যুবলীগের এক কর্মী মারা যান।
