৮ বছরেই সন্ন্যাসিনী দেবাংশী

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৪৯ এএম

গুজরাটের এক ধনী হীরা ব্যবসায়ীর মেয়ে দেবাংশী সাঙ্ঘভি। যে বয়সে ছোট্ট দেবাংশীর পুতুল খেলার কথা, সে বয়সেই বাবার বিশাল হীরা ব্যবসার উত্তরাধিকার ছেড়ে সন্ন্যাসব্রত বেছে নেন। সাদা থান পরে ভিক্ষার পাত্র হাতে খালি পায়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। লিখেছেন নাসরিন শওকত

জৈন ধর্ম

বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মের একটি জৈন ধর্ম। জৈন ধর্মাবলম্বীরা জিন অর্থাৎ ‘বিজয়ী’দের অনুসারী, যাদের আধ্যাত্মিক লক্ষ্য হলো পুনর্জন্মের অন্তহীন চক্র থেকে মুক্ত হওয়া এবং ‘মোক্ষ’ লাভের মাধ্যমে সর্বজ্ঞ অবস্থা অর্জন করা। যা অহিংস জীবনযাপনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। এই ধর্মের অনুসারীরা কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। আত্মশুদ্ধি, ধ্যান, অহিংসা, কঠোরভাবে  নিরামিষ খাবার খাওয়া এবং ছোট-বড় সব প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা প্রর্দশন জৈন ধর্মের আদর্শ।

কমপক্ষে আড়াই হাজার বছর আগে উত্তর ভারতে এই ধর্মের উৎপত্তি হয়। পরবর্তীতে দক্ষিণের দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪ জন তীর্থঙ্কর বা শিক্ষক উত্তরাধিকার সূত্রে এ অঞ্চলে জৈন ধর্মের বিস্তার ঘটান। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ও সবশেষ তীর্থঙ্কর ছিলেন বর্ধমানের মহাবীর। যিনি মহামতী বুদ্ধের সমসাময়িক ছিলেন। ভারতে জৈন ধর্ম একটা সময় উল্লেখযোগ্য  প্রসার পায়। ফলে বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চিন্তা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। পরে ভারতে হিন্দু ধর্ম শক্তিশালী অবস্থান নেয় ও মুসলিম শাসকরা বিজয় লাভ করতে থাকলে ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটে। ফলে অনেক অঞ্চলে এই ধর্মের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকে। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতের পশ্চিম থেকে দক্ষিণে বিস্তার লাভ করা এই ধর্ম এভাবে তার গৌরব হারায়। কিন্তু এখনো ভারতে জৈন ধর্মের প্রভাব রয়েছে। জৈন ধর্মাবলম্বীরা তাদের শিক্ষা, সামাজিক অবস্থান, প্রতিপত্তি ও সম্পত্তির জন্য ভারতের সমাজে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে আছে। 

সাঙ্ঘভি পরিবার

ভারতের পশ্চিম উপকূলের রাজ্য গুজরাট। কাঠিয়াওয়ার উপদ্বীপের তীরে অবস্থিত রাজ্যটি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্রও। এ রাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর সুরাট। তাপি নদীর তীরবর্তী এই শহরটি এক সময় রেশম বুননের জন্য বিখ্যাত ছিল। সুরাটে বিখ্যাত ও প্রভাবশালী পরিবারগুলোর একটি হলো সাঙ্ঘভি পরিবার। হীরা কোম্পানি ‘সাঙ্ঘভি অ্যান্ড সন্স’ সাঙ্ঘভি পরিবারের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ১৯৮১ সালে প্রয়াত তারাচাঁদ সাঙ্ঘভি, মোহন সাঙ্ঘভি ও ললিত সাঙ্ঘভি সাঙ্ঘভি পরিবারের এই তিন ভাই মিলে এই কোম্পানিটি  প্রতিষ্ঠা করেন, যা বংশপরম্পরায় পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন হীরা কোম্পানিগুলোর একটি সাঙ্ঘভি অ্যান্ড সন্স। ভারতের হীরার জগতেও রয়েছে যার সুখ্যাতি। হীরা প্রস্তুত ও বিপণনকারী এই সংস্থাটি তিন দশক ধরে হীরা পোলিশ ও সুরাট থেকে হীরা রপ্তানি করে আসছে।

দেবাংশী সাঙ্ঘভি

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সাঙ্ঘভি পরিবারের ছেলে ধানেশ সাঙ্ঘভি, গুজরাটের সুরাট শহরের প্রখ্যাত হীরা ব্যবসায়ী। যিনি সাঙ্ঘভি অ্যান্ড সন্স কোম্পানির পরিচালক ও একজন অংশীদার। সাঙ্ঘভি পরিবার জৈন ধর্মের অনুসারী। ধানেশ মোহন সাঙ্ঘভির একমাত্র ছেলে। তার স্ত্রী অমি সাঙ্ঘভি। ধানেশ ও অমি সাঙ্ঘভি দম্পতির দুই মেয়ে। বড় মেয়ে দেবাংশী সঙ্ঘভি। সাঙ্ঘভি পরিবারের বিপুল ঐশ্বর্যের মধ্যেই বেড়ে ওঠার কথা ছিল তার। কিন্তু পুতুল খেলার এই বয়সেই দেবাংশী ‘জৈন সাধ্বী’ (সন্ন্যাসিনী ) হওয়ার জন্য জাগতিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ও বিলাসী জীবনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। মাত্র আট বছর বয়সে সে সন্ন্যাসজীবনের পথ বেছে নিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। এ বছরের ১৮ জানুয়ারি জৈন সন্ন্যাসিনী হিসেবে ‘দীক্ষা’ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে উঠেছে দেবাংশী। ভারতের ক্রেডিট রেটিং সংস্থা আইসিআরএ-এর তথ্য মতে, দেবাংশীর পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘সাঙ্ঘভি অ্যান্ড সন্স-এর মোট সম্পদের মূল্য পাঁচ বিলিয়ন রুপি (৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। প্রাপ্তবয়স্ক হলে সে বাবার এই কোটি কোটি রুপির হীরা ব্যবসার উত্তরাধিকার হতো।

সাধারণ জীবনযাপন

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের এ পর্যন্ত ৪৫ লাখ জৈন ধর্মাবলম্বী বাস করেন। যাদের মধ্যে অনেকেই ঐতিহ্যবাহী ও ধনী ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অংশ। এদের মধ্যে সাঙ্ঘভী পরিবারও একটি। গুজরাটের পশ্চিমের শহর সুরাট, যা ‘হীরার শহর’ নামে পরিচিত। এই শহরে জৈন সম্প্রদায়ের মধ্যে দেবাংশীর বাবা-মা ভীষণ ‘ধার্মিক’ হিসেবে পরিচিত। তাই বাবা-মায়ের আকাক্সক্ষা পূরণ করতে সে সন্ন্যাস জীবনের পথকেই বেছে নিয়েছে। আর তাকে সন্ন্যাস জীবনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বাবা ধানেশ ও মা অমি সব সময় থেকেছেন পাশে। 

সুরাটের অন্যতম ধনী পরিবারের সন্তান হয়েও দেবাংশী একেবারে শৈশব থেকেই যাপন করেছে সাধারণ জীবন। দেবাংশীর পরিবারের সদস্যদের তথ্য মতে, ‘এই ৮ বছরের মধ্যে দেবাংশী কখনোই টেলিভিশন বা সিনেমা দেখেনি। কখনো হোটেল বা রেস্তোরাঁতেও খেতে যায়নি । এমনকি শপিংমল বা কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানেও যায়নি কখনো। শৈশব থেকে সে দিনে তিনবার করে প্রার্থনা করে আসছে। এমনকি তার বয়স যখন দুই, তখন থেকে উপবাসও করে আসছে।’ অদ্ভুত শোনালেও, মাত্র ৮ বছর বয়সেই দেবাংশী জৈন ধর্মের ৩৬৭টি দীক্ষা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে। এর পরই সে জৈন সাধ্বী হওয়ার পরিকল্পনা করে, যা তাকে জাগতিক জীবনের মোহমায়া ত্যাগ করতে উৎসাহ জোগায়। সাঙ্ঘভি পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিরব শাহ বলেছেন, দেবাংশী সাঙ্ঘভি পরিবারের বড় মেয়ে। তার চার বছরের ছোট একটি বোন আছে। ‘একেবারে শিশু বয়স থেকেই দেবাংশীর আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের প্রতি এক ধরনের ঝোঁক ছিল। সে সময় থেকেই তপস্বীর জীবন পালন করে আসছে। সন্ন্যাসিনী হওয়ার দীক্ষা নেওয়ার আগে সে অন্য সন্ন্যাসীদের সঙ্গে প্রায় ৭শ’ কিলোমিটার পথ পর্যন্ত হেঁটেছে, যার মধ্য দিয়ে সন্ন্যাসজীবনের আত্মত্যাগের উপলব্ধি অর্জনের চেষ্টা করেছে সে।’ ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ‘দেবাংশী রীতিমতো ওস্তাদের কাছে তালিম নিয়ে গান শিখেছে। আবার ভরতনাট্যমেও সে পারদর্শী। পাঁচ পাঁচটি ভাষার ওপর দখল রয়েছে তার। যেমনÑ হিন্দি, গুজরাটি, সংস্কৃত, ইংরেজি ও মারোয়ারি।

মহাসমারোহের দীক্ষা গ্রহণ

জৈন ধর্মে চারটি গোত্র আছে। যাদের মধ্যে সবাই শিশু সন্ন্যাসের দীক্ষা নিতে পারে না। এর মধ্যে একটি মাত্র গোত্রেই শিশুদের সন্ন্যাসব্রত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই গোত্রে জন্ম হওয়ায় দেবাংশী শিশু হয়েও সন্ন্যাসিনী হতে পেরেছে। বাকি তিন গোত্র থেকে সন্ন্যাসের দীক্ষা নিতে হলে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হয়। জৈন ধর্মের ঐতিহ্য অনুসারে, জৈন সন্ন্যাসী বা সন্ন্যাসিনীদের কঠোর আচার অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে দীক্ষা অর্জন করতে হয়। দীক্ষা নেওয়ার পর নারী সন্ন্যাসীকে বলা হয় ‘সাধ্বী’ (সন্ন্যাসিনী)। দেবাংশীর সন্ন্যাসব্রত অনুষ্ঠানে জাঁকজমক ও আড়ম্বরের কোনো কমতি ছিল না। টানা চার দিনের ঐতিহ্যবাহী নানা রীতি-রেওয়াজ পালনের মধ্য দিয়ে মহা সমারোহে চলে এ অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে তার পরিবার দীক্ষা নেওয়ার আগের দিন এক মহা-শোভাযাত্রার আয়োজন করে সুরাট শহরে। উট, ঘোড়া, ষাঁড়ের গাড়ি, ঢোলবাদক, পাগড়ি পরা উল্লসিত জৈন ধর্মানুসারীরা সড়কের এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। নাচ, গান ও ঢাকঢোলের তালে তালে তাদের সঙ্গে কয়েক হাজার দর্শক উপভোগ করে সেদিনের এই দৃশ্য। হাতির পিঠে বিশেষ আসনে বসা ছিল দেবাংশী। তার সঙ্গে ছিল বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় চারপাশে থাকা উৎসুক জনতা তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাকে বরণ করছিল। এ যেন সেলুলয়েডের পর্দায় দেখা পৌরাণিক কোনো চলচ্চিত্রের আধুনিক সংস্করণ।

দেবাংশী দীক্ষা নেয় ১৮ জানুয়ারি। সেদিনও একইরকম আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। মোটর শোভাযাত্রায় সুরাটের মন্দিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে উপস্থিত হয় দেবাংশী। তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সেদিন সুরাটের ভেসু এলাকায় জৈন সম্প্রদায়ের সাধু আচার্য বিজয় কীর্তিয়াশসুরী ও কয়েকশ’ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় তার সন্ন্যাস নেওয়ার পর্ব ‘দীক্ষা’। সে সময় তার পরনে ছিল দামি সিল্ক দিয়ে তৈরি কাপড়। শরীরজুড়ে ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যবাহী নানা দামি অলংকার। তার মাথায় ছিল হীরার একটি মুকুট। জৈন রীতির বেশ কিছু প্রথা পালনের মধ্য দিয়ে সন্ন্যাস দীক্ষা নেওয়া শেষ হয়। এবার একেবারে ভিন্নরূপের এক দেবাংশী জৈন সন্ন্যাসিনীদের পাশে এসে দাঁড়ায়। তখন নিরাভরণ দেবাংশীর পরনে ছিল সাদা রঙের একটি শাড়ি। মাথার সব চুল ফেলে দেওয়ায় শাড়ি দিয়ে সে ন্যাড়া মাথা ঢেকে রেখেছে। চলার পথে কীটপতঙ্গের মৃত্যু এড়াতে হাতে একটি ঝাড়ু রাখা তার। এভাবেই দীক্ষা গ্রহণ শেষ  হয় তার । এরপর থেকে দেবাংশী থাকছে জৈন ধর্মের সন্ন্যাসীদের আশ্রমে ‘উপাশ্রয়া’য় (মঠ)। সন্ন্যাসজীবন গ্রহণ করায় এখন থেকে দেবাংশী হবে ‘সাধ্বী’ বা দিগন্থপ্রজ্ঞাশ্রীজী’।

দেবাংশীর বাবা ধানেশের ব্যবসায়িক ও পারিবারিক বন্ধু সুরাটের কীর্তি শাহ। ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) স্থানীয় নেতা কীর্তি শাহ দেবাংশীর সন্ন্যাসজীবন নেওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সে (দেবাংশী) আর বাড়িতে থাকতে পারবে না, তার মা-বাবা আর এখন আর তার মা-বাবা নন। সে এখন একজন সাধ্বী (সন্ন্যাসিনী)।’ সন্ন্যাসী জীবনের রীতির বর্ণনা দিয়ে কীর্তি শাহ আরও বলেন, ‘জৈন ধর্মের সন্ন্যাসিনীদের কঠোর নিয়ম পালনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। এখন থেকে সে আর গাড়িতে চড়তে পারবে না। তাকে সব জায়গায় পায়ে হেঁটে যেতে হবে। মেঝেতে একটি সাদা কাপড়ের ওপর শুয়ে ঘুমাতে হবে এবং সূর্যাস্তের পর আর খাবারও খেতে পারবে না।’

সমালোচনা

ভারতে জৈন সম্প্রদায় সন্ন্যাস প্রথাকে নৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে। তবে কঠোর ধর্মীয় রীতির কারণে জৈন ধর্ম মাঝে মাঝেই সমালোচনার মুখে পড়ে। দেবাংশীর বেলায়ও যার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তার সন্ন্যাসজীবন নেওয়ার বিষয়টি বেশ বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ধনী পরিবারের ৮ বছর বয়সী এই শিশুর (দেবাংশীর) সন্ন্যাসজীবন গ্রহণের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তারপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেবাংশীর পরিবার (মা-বাবা) শিশু অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে চলছে তীব্র সমালোচনা। দেবাংশীর দীক্ষাগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলেন কীর্তি শাহ। সেদিন অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে কীর্তি শাহ বলেছেন, একজন শিশুকে এভাবে সন্ন্যাসে দীক্ষিত করার বিষয়টি তিনি মানতে পারেন না। তার মতে, কোনো ধর্মেই শিশুদের সন্ন্যাস হতে দেওয়া উচিত নয়। বিবিসিকে মুম্বাইয়ে শিশু সুরক্ষা পরামর্শক নিলিমা মেহতা জানান, দেবাংশীকে নিদারুণ কঠিন জীবন পার করতে হবে। জৈন সন্ন্যাসিনীর জীবন ভয়ানক কঠিন। এদিকে ধর্মীয় প-িতরা বলেছেন, জৈন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সংসারজীবন ত্যাগ করে সন্ন্যাসজীবন বেছে নেওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। শেষ কয়েক বছরে সন্ন্যাস নেওয়ার এ হার দ্রুত বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে দেবাংশীর মতো এমন ধনী পরিবারের শিশুসন্তানের সন্ন্যাসিনী হওয়া বিরল ঘটনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত