ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিস ও ক্যানসার

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৩, ১০:২৪ পিএম

দেশে প্রতি তিনজন মানুষের একজন ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন। রোগটি বয়স্ক এবং পুরুষদের বেশি হলেও এখন বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত।

ফ্যাট থেকে বদলে যায় লিভার : যকৃতে যখন তার নিজস্ব ওজনের ৫ থেকে ১০ ভাগ বেশি চর্বি জমে যায়, তখন এটিকে বলা যায় ফ্যাটি লিভার। যখন যকৃতে শুধু চর্বি জমে থাকে কিন্তু কোনো প্রদাহ থাকে না, এটি সাদামাটা ফ্যাটি লিভার। কিন্তু একপর্যায়ে এখানে তৈরি হয় প্রদাহ। রক্তের এক ধরনের কোষ এখানে এসে আঘাত হানে। একে বলা হয় স্টিয়ো-হেপাটাইটিস। এ পর্যায়ে যকৃতের কোষগুলো আস্তে আস্তে ধ্বংস হতে থাকে। সুশৃঙ্খল কোষ কাঠামো ভেঙে এবড়ো-থেবড়ো আকার ধারণ করে। তন্তু জাতীয় কোষের আধিক্য বেড়ে যায়। এটাকে বলা হয় ফাইব্রোসিস। পরবর্তী সময় এটি মোড় নেয় সিরোসিসের দিকে। মসৃণ যকৃতের পৃষ্ঠ তখন  হয়ে পড়ে এবড়ো-থেবড়ো এবং মার্বেলের মতো অসংখ্য গুটি তৈরি হয় এর গা-জুড়ে। যাদের ফ্যাটি লিভার রয়েছে তাদের এক-চতুর্থাংশ বলা যায় এ রকম স্টিয়ো-হেপাটাইটিস নামক বিপর্যয়ের মাঝে অবস্থান করছেন। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ বেশি।

ফ্যাটি লিভারের কারণ : স্থূলতা যকৃতে চর্বি সৃষ্টির জন্য প্রধান ঝুঁকি। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাইপোথাইরয়েডিজম, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, হেপাটাইটিস সি, পিটুইটারি অন্তক্ষরা গ্রন্থির কার্যক্ষমতা হ্রাস, রক্তে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি বিশেষত ট্রাই গ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে যকৃতে চর্বি জমে যাচ্ছে দিন দিন।

প্রতিরোধ : ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ওজন ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। অত্যধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ । ফাস্ট ফুড না খাওয়া। শাকসবজি ফলমূল ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় স্থান দেওয়া। অ্যালকোহল বর্জন , ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাইপো থাইরয়েডিজম, রক্তে চর্বির অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে। ফ্যাটি লিভার যাতে খারাপ পরিণতির দিকে না যায় সে জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত