পারকিনসন্স রোগীর ভবিষ্যৎ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৩, ১২:২৮ এএম

পারকিনসন্স মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত রোগ।

কারণ : ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে পারকিনসন্স রোগের কারণ অজানা। ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণে এ রোগ হয়। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বিভিন্ন কারণে হয়। যেমন স্ট্রোক, টিউমার, বারবার মস্তিষ্কে আঘাত, মস্তিষ্কের ইনফেকশন, উইলসন ডিজিজসহ মস্তিষ্কের অন্যান্য রোগ। সব মিলিয়ে পারকিনসনিজম।

যারা আক্রান্ত হন : নারী-পুরুষ উভয়ই সমানভাবে আক্রান্ত হন। সাধারণত বয়স ৬০ বছর পার হওয়ার পর এ রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ে। জেনেটিক ক্ষেত্রে কম বয়সে (১৫-২০ বছরের মধ্যে) এ রোগে কেউ আক্রান্ত হতে পারে।

রোগের লক্ষণ : এ রোগের প্রধান উপসর্গ বা লক্ষণ তিনটি। এগুলো হলো হাত-পায়ে কাঁপুনি, হাত-পা স্বাভাবিকের চেয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া এবং চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যাওয়া। এ ছাড়া সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটা, কথার স্বর কমে যাওয়া, কম কথা বলা, চোখের পাতার নড়াচড়া কমে যাওয়া, বারবার পড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, হতাশা, উদ্বিগ্নতা, উদাসীনতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘুম কম হওয়া, বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা বা প্রস্রাব আটকে যাওয়া, যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া।

চিকিৎসা : সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগী দীর্ঘদিন ভালো থাকতে পারেন। এ রোগে আক্রান্ত রোগীকে আজীবন ওষুধ সেবন করতে হয়। এ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ নয়।

চিকিৎসা : ডিবিএস পদ্ধতিতে অতি ক্ষুদ্র ইলেকট্রোড মস্তিষ্কের গভীরে স্থাপন করা হয়। এতে ওষুধ অনেক কম লাগে। তাতে উপসর্গগুলো ৯০ শতাংশ কমে যায়। কিন্তু এটি খুব ব্যয়বহুল। এ পদ্ধতি আমাদের দেশে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে। অ্যাডভান্সড পারকিনসন্স ডিজিজ রোগীর ক্ষেত্রে লিভোডোপা প্যাচ, অ্যাপোমরফিন ইনফিউশন পাম্প ও লিভোডোপা-কারভিডোপা ইনটেস্টিনাল জেল রয়েছে। আমাদের দেশে এখনো এ চিকিৎসা শুরু হয়নি। ওষুধের পাশাপাশি ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পারকিনসন্স রোগের উন্নতি ঘটানো যায়। রোগী ও তার পরিবারের সবাইকে তাই সচেতন হতে হবে। তবেই রোগীকে সচল রাখা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে রোগীর কাছে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা উত্তম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত