অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার দেরিতে ধরা পড়ে

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:০৭ এএম

প্যানক্রিয়াটিক বা অগ্ন্যাশয় হচ্ছে আমাদের শরীরে একটা গ্ল্যান্ড। যেটা আমাদের পাকস্থলীর পেছনে আড়াআড়িভাবে থাকে। এটার কাজ আসলে দুটি। এক, ইনসুলিন তৈরি করা। দুই, হজমের রস তৈরি করা। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। যখন শরীরের অন্যান্য অঙ্গে চতুর্থ বা পঞ্চম ধাপে পৌঁছায় তখন রোগটি শনাক্ত করা যায়। ফলে চিকিৎসা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

লক্ষণ : ক্লান্তিবোধ করা, ক্ষুধা অনুভূত না হওয়া, জন্ডিস হওয়া, ওপরের পেটে ব্যথা হওয়া, পিঠে ব্যথা করা, বমি বমি ভাব, হতাশা, অস্বস্তির অনুভূতি হওয়া।

কেন হয় : ধূমপান করলে, ডায়াবেটিস থাকলে, অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস আছে, অগ্ন্যাশয় প্রদাহ, মাত্রারিতিক্ত অ্যালকোহল সেবন, ওজন বৃদ্ধি, বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে।

রোগ নির্ণয় : রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে পিইটি স্ক্যান করা। এই পরীক্ষায় অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে তা নির্ণয় করা যায়। এন্ডোস্কোপিক আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা, এমআরআই করা, সর্বশেষ পর্যায়ে বায়োপসি করার মাধ্যমেও নির্ণয় করা যেতে পারে।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের দুটি ধরন আছে।

এক্সোক্রাইন অগ্ন্যাশয় ক্যানসার এন্ডোক্রাইন অগ্ন্যাশয় ক্যানসার চিকিৎসা : ক্যানসার কোন পর্যায়ে আছে এবং গ্রেডের ওপর নির্ভর করে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়। ক্যানসার যদি প্রমাণিত হয়ে যায় তাহলে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে চিকিৎসা সার্জারি। এক্ষেত্রে ক্যানসার পুরোপুরি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে যায় সেক্ষেত্রে ক্যানসার নির্মূল অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন চিকিৎসক প্যালিয়েটিভ অপারেশন করেন। আর পঞ্চম পর্যায়ে গিয়ে যদি রোগ শনাক্ত হয় তবে ক্যানসারের কারণে যে সমস্যা হয় তা নিরাময়ের চিকিৎসা করা হয়। সেক্ষেত্রে সার্জারি, কেমোথেরাপি, ওষুধ ও রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত