গ্যাসের আগুনে একে একে নিভে গেল তিনটি জীবন। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ একই পরিবারের তিনজনই মারা গেছেন। এই পরিবারে আর কেউ বেঁচে নেই।
রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, সবশেষ আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে মারা যান ওই পরিবারের গৃহকর্তা মাইদুল ইসলাম (২৪)। এর আগে সোমবার সকালে মারা যান তার স্ত্রী বিউটি (২৪)।
অন্যদিকে শনিবার সকালে মারা যায় তাদের আট বছরের শিশু সন্তান মারুফ। এভাবেই একটি পরিবার শেষ হয়ে যায়।
স্বজনরা বলছেন, এই পরিবারটির আর কেউ রইল না। মাত্র চার দিনের মধ্যে একে একে সবাই চলে গেছে।
মাইদুল নাটোর জেলার বাসিন্দা। তিনি বন্দরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরিবারটি প্রায় এক বছর ধরে এখানে বসবাস করছিল।
গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বন্দরের কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকার সেলিম মিয়ার টিনশেড বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও তাদের একমাত্র সন্তান মারুফ দগ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
তখন চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, আগুনে শিশু মারুফের শরীরের ৯০ শতাংশ, মাইদুলের ৮৫ শতাংশ এবং বিউটির ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
মৃত মারুফের মামা মো. রনি জানান, বন্দরে তারা পাশাপাশি বাসায় ভাড়া থাকেন। মাইদুল একটি টিনসেড বাসায় থাকতেন। সকালে মাইদুল ঘরের মধ্যে সিগারেট ধরানোর পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা তার পরিবারের তিনজনও দগ্ধ হন। তাদের ধারনা জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, বিউটিদের বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার ওমরপুর গ্রামে। আর মাইদুলের বাড়ি একই উপজেলার বরবাদকয়া গ্রামে। মাইদুল রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো। মারুফ স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। এই ঘটনায় একে একে পরিবারটির ৩ জনই মারা গেলেন।
পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতে বের হয়ে শিক্ষার্থী নিখোঁজ